মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে কঠোর নজরদারির উদ্যোগ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩

সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর উপর কঠোর নজরদারির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিপ্রায় অনুযায়ী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগে সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের অভিপ্রায় অনুযায়ী পিএস নিয়োগ করা হতো। তবে সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নিয়োগ করার ক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর প্রিভিলেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী অধিকার বলবত্ রাখা হয়েছে। অবশ্য যদি মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য সরকারি কর্মকর্তাকে এপিএস নিয়োগ দিতে চান সেক্ষেত্রে তার সার্ভিস রেকর্ড বিবেচনা করে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে একজন মন্ত্রী এপিএস নিয়োগের উদ্দেশ্যে একজন সরকারি কর্মকর্তার নাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও মন্ত্রণালয় সে নিয়োগ দেয়নি। কারণ ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাজকর্ম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে। তবে কী প্রক্রিয়ায় তা করা হবে সে বিষয়টি খোলাসা করেননি তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানান, নজরদারির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রশাসনে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। পিএস, এপিএসদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ইতিপূর্বে কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কোনো কোনো পিএস, এপিএসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলাও হয়েছে। তবে পিএস, এপিএসদের ক্ষেত্রবিশেষে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনার কারণে এবার প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী পিএস নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিনা সেই প্রশ্নের জবাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই সূত্র।

এদিকে কর্মক্ষেত্রে কাজের ধরন, প্রক্রিয়া ও কর্তব্য সম্পর্কে নবনিযুক্ত পিএসদের ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পিএস নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মকর্তার সততা, পেশাদারিত্ব এবং দেশাত্মবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পিএসদের সর্বাত্মকভাবে মন্ত্রীদের আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রীদের অভিপ্রায় অনুযায়ী নিযুক্ত এপিএসগণ রাজনৈতিক বিষয়াবলি দেখবেন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে পিএসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। এ সপ্তাহেই নবনিযুক্ত পিএসদের ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে।