যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

ট্রাম্পের অনুপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ জো বাইডেনের হাতে!

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৭

তালেব রানা

 

আগামী ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রচারণায় অনুপস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় প্রচারণা থেকে দূরে রয়েছেন তিনি। তার চিকিত্সকরা এখনো তাকে করোনামুক্ত বলে ঘোষণা দেয়নি। তবে আক্রান্ত হওয়ার ৯ দিন পর গত শনিবার হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারণায় ফিরেছেন তিনি। হোয়াইট হাউজের একটি বারান্দা থেকে নিচের উন্মুক্ত স্থানে সমবেত প্রায় ২ হাজার সমর্থকের সামনে তিনি ‘আইনশৃঙ্খলা’ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। ট্রাম্প করোনাকে পরাজিত করে নির্বাচনি লড়াইয়ে ফিরেছেন সেটিই দেখানো ছিল এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য। আজ সোমবার ফ্লোরিডার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এক নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের।

সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, অসুস্থ হওয়ার কারণে নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি সপ্তাহে প্রচারণা চালাতে পারেননি ট্রাম্প। এ কারণে নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ এখন বাইডেনের হাতে। ঐ খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আর মাত্র ২৩ দিন বাকি আছে। এর মধ্যে লাখ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। বাইডেনের সহযোগী ও ডেমোক্র্যাটরা মিত্ররা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল পদক্ষেপ বাইডেনের ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করার কিছু পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ট্রাম্পের জন্য সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। যে সুযোগ তার সামনে ছিল সেগুলোকেও কাজে লাগাতে পারছেন না তিনি।

পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট বিতর্কে বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে পরাস্ত করেছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় বিতর্কে অংশ নিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকায় বিতর্কটি ভার্চুয়ালি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প রাজি না হওয়ায় বিতর্কটি বাতিল হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন পুনরুদ্ধার প্যাকেজ নিয়ে হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলেসির সঙ্গে তার প্রশাসনের চলমান একটি আলোচনা বাতিল করেছেন। অথচ নির্বাচনের আগে এই প্যাকেজটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য ও পদক্ষেপ তার মূল্যবান সুযোগও নষ্ট করেছে। অন্যদিকে ম্যাজিক ফিগার অর্জনে ভালোভাবে এগিয়ে আছেন জো বাইডেন। গত মাসে নির্বাচনের আগে তহবিল সংগ্রহেও রেকর্ড করেছেন বাইডেন। সম্প্রতি সিএনএনের এক জরিপে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে ট্রাম্পের থেকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। তিনি ৫৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন যেখানে ট্রাম্পের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪১ শতাংশ ভোটার। ‘কোর ব্যাটেলগ্রাউন্ড’ ছয়টি অঙ্গরাজ্য অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভেনিয়া ও উইসকনসিনের মধ্যে তিনটি বা চারটিতে জিতলেই প্রসিডেন্ট হওয়ার প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।

কুইনিপিয়াকের এক জরিপে বলা হয়েছে, পেনসিলভেনিয়াতে ১৩ পয়েন্ট এবং ফ্লোরিডাতে ১১ পয়েন্টে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন বাইডেন। মারকুয়েত্তে জরিপের ফল অনুযায়ী উইসকনসিনে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে বাইডেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সিয়েনার জরিপে দেখা গেছে—অ্যারিজোনায় আট পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন। আর সিবিএসও ইউগভের জরিপে বলা হচ্ছে, নর্থ ক্যারোলিনাতে বাইডেন এগিয়ে দুই পয়েন্টে। সব মিলিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জো বাইডেন। সম্প্রতি তার প্রচারণা টিম সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার একটি ভিডিও প্রচার করেছেন। একে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘ক্লোজিং আর্গুমেন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেনসিলভেনিয়ার গেটিসবার্গে সম্প্রতি বাইডেনের ভাষণ প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে থাকা অঙ্গরাজ্যও এখন ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেটে পরিণত হয়েছে।

সিএনএনের জরিপ বলছে, ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতে বাইডেনের জয় এক প্রকারে নিশ্চিত। এসব রাজ্যে রয়েছে ২০৩টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। আর যে সব রাজ্য ডেমোক্র্যাট তথা বাইডেনের দিকে ঝুঁকে রয়েছে সেগুলোতে রয়েছে প্রায় ৮৭টি ইলেক্টোরাল ভোট। এসব রাজ্যে জয় পেলে ২৯০টি ইলেক্টোরাল ভোট নিশ্চিত হবে বাইডেনের। অন্যদিকে রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতে ট্রাম্প জয় পেলে পাবেন ১৬৩টি ইলেক্টোরাল ভোট। ছয়টি ব্যাটেলগ্রাউন্ডে রয়েছে ৮৫টি কলেজ ভোট। ট্রাম্পকে জিততে হলে এসব রাজ্যে জিততে হবে, একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে থাকা রাজ্যেও জয় পেতে হবে। এই হিসাবে ট্রাম্পের জন্য জয় পাওয়া সহজ হচ্ছে না।