নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি :জয়

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ভোট কারচুপির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ বেশি ভোট পেয়েছে। এত বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না। তাছাড়া এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো কারচুপির প্রমাণও দেখাতে পারেনি। ফলে এটা প্রমাণিত যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে।

গতকাল শনিবার জয় তার নিজের ফেসবুক পাতায় এক পোস্টে আওয়ামী লীগের বিজয় ও ঐক্যফ্রন্টের পরাজয়ের কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদেরও সমালোচনা করেন। ওই পোস্টে তিনি বলেন, কোনো আসন থেকেই জিততে পারবেন না এটা জানতেন বলেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন নিজে নির্বাচনই করেননি। কিন্তু তারা আমাদের কিছুটা অবাকও করেছেন। ভোটের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম একটি নয়, দুইটি আসন থেকে জয়লাভ করে। কারচুপি যদি হতো, তাহলে যে দল আগে কোনো নির্বাচনেই কোনো আসন পায়নি, তারা কীভাবে দুটি আসনে জেতে? জয় বলেন, গত এক দশকের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনই ছিল সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

ভোট কেন্দ্রে বিএনপিকে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের জবাবে জয় বলেন, ‘তারা বলছে ভয়-ভীতির কথা। কিন্তু যদি আমরা ধরেও নেই আওয়ামী লীগের বাইরের সকল ভোট বিএনপি-জামায়াত এর পক্ষেই যেত, তাহলেও ২ কোটি ২০ লক্ষ ভোটের ব্যবধান থাকত বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে।’ জয় বলেন, ‘তাদের প্রথম অভিযোগ, ভোটার সংখ্যা ছিল বেশি, তার মানে ভুয়া ভোট দেওয়া হয়েছে। এবার ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড। সেই নির্বাচনটিতেও আওয়ামী লীগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। তিনি বলেন, ২০০১ সালে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ আর ১৯৯৬ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ। ওই দুইটি নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট দেওয়ার হার সামান্য বেশি ছিল। কারণ এক দশকে এটাই ছিল প্রথম অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন।’

জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে যে কোনো সময়ের থেকে বেশি। আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি, মাথাপিছু আয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার অর্ধেক করা হয়েছে, মোটামুটি সবাই এখন শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে।

বিএনপির প্রচারণার অভাব ও মনোনয়ন প্রক্রিয়াও এতে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, তাদের আত্মঘাতী নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টিও আমাদের আমলে নিতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় কমতি ছিল পরিষ্কারভাবেই। তার উপর তারা তারেক রহমানের মাধ্যমে নিজেদের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাত্কার নেয়। আর মানুষের মনে ভেসে উঠে হাওয়া ভবন আমলের দুর্নীতি ও সহিংসতার দুঃসহ সব স্মৃতি। তারেক রহমান আবার মনোনয়ন দেন একাধিক চিহ্নিত অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের। এর মাধ্যমে কি তাদের জনপ্রিয়তা বাড়বে না কমবে?