বরিশালের বাস টার্মিনালে হাঁটুপানি, খানাখন্দে ভরা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৭

নগরীর দুই প্রবেশদ্বারে নির্মিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য রূপাতলী বাস টার্মিনাল এবং অভ্যন্তরীণ ও সারা দেশের সড়ক পথে যাত্রীদের জন্য কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের অধীন তিন একর জায়গা বিশিষ্ট রূপাতলী বাস টার্মিনালে বছরের সব সময়ই হাঁটু সমান পানি কিংবা কর্দমাযুক্ত থাকে। একই আয়তনের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে হাঁটু সমান পানি না থাকলেও পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। সারা দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের এ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।

সরেজমিন রূপাতলী গিয়ে দেখা যায়, এ টার্মিনালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি রুটের ১০টি মালিক সমিতির অধীন ১ হাজারের বেশি বাস-মিনিবাস চলাচল করছে। প্রতিদিন যাতায়াতকারী লাখো যাত্রীকে টার্মিনালেই পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। পাবলিক টয়লেটের নামে বিসিসি থেকে ইজারা নেওয়া রূপাতলী বাস টার্মিনালের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে যেতে হলে প্রয়োজন পড়ে নৌকার। হাঁটু সমান পানি পেরিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ঐ পাবলিক টয়লেটের সামনে গিয়ে আর ভেতরে প্রবেশ করতে চায় না যাত্রীরা। বসার কোনো স্থান না থাকায় টিকেট কেটে দীর্ঘক্ষণ বৃদ্ধ, নারী, শিশুদের দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই এ টার্মিনালে।

তবে নগরীর অপর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে হাঁটু সমান পানি না থাকলেও পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। এ টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ১৫টি রুটে ২২০টি এবং রাজধানীসহ সারা দেশে বাস চলাচল করে পাঁচ শতাধিক। এ টার্মিনাল থেকে ২৪ ঘণ্টা যাত্রী পরিবহন করলেও নেই কোনো বিশ্রামাগার। সিটি করপোরেশনের ইজারাকৃত একটি পাবলিক টয়লেট বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা বাকি দুটি পাবলিক টয়লেটও যাত্রীবান্ধব নয়। এ রুটে যাতায়াতকারীরা জানান, যাত্রার শুরুতেই এ টার্মিনালে তাদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। স্বাস্থ্যবিধির পরিবর্তে সর্বত্র নোংরা পরিবেশসহ রাতে যাত্রীদের আতঙ্ক নিয়ে টার্মিনালে অবস্থান করতে হয়। বখাটেদের উত্পাতসহ অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও সেদিকে কারো নজর নেই। এছাড়া দিনে দিনে এসব রুটে ভাড়া বৃদ্ধি পেলেও তাদের দুর্ভোগ কমছে না।

টার্মিনালের নানা সমস্যার কথা স্বীকার করে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারাও জানান, প্রতিদিন এ টার্মিনাল থেকে অসংখ্য যাত্রী যাতায়াত করলেও টার্মিনালের অবস্থা শোচনীয়।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা ইত্তেফাককে জানান, নানা অব্যবস্থাপনায় টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও টয়লেট সুবিধা না থাকায় বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের সঙ্গে সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হলেও প্রতিশ্রুতির মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকছে। তিনি টার্মিনালগুলো যাত্রীবান্ধব করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, বাস টার্মিনাল উন্নয়নের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ঐ প্রকল্প পাশ হলেই সব সমস্যা নিরসন করা সম্ভব হবে।