সেনাবাহিনীকে সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার একবিংশ শতাব্দীর ভূরাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি সময়োপযোগী, আধুনিক, প্রযুক্তিগতভাবে সুসজ্জিত ও জ্ঞাননির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল রবিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০টি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একুশ শতকের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারদর্শী সেনাবাহিনী গঠনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাভার ক্যান্টনমেন্টে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে সাভার সেনানিবাসে গতকাল কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (সিএমপিসিঅ্যান্ডএস), যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ১, ৩, ৬ ও ৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, এডহক ১১ বীর (মেকানাইজড), ১২ বীর, ১৩ বীর, ১৫ বীর (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন), ৫৯ ইস্টবেঙ্গল (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন) ও স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসকে (এসআইঅ্যান্ডটি) জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান প্যারেড শেষে প্রধানমন্ত্রী তার মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সাজসজ্জায় সজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠন ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগ ও অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। এছাড়া তিনি ১, ৩, ৬ ও ৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, এডহক ১১ বীর (মেকানাইজড), ১২ বীর, ১৩ বীর, ১৫ বীর (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন), ৫৯ ইস্টবেঙ্গল (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন) ও এসআইঅ্যান্ডটির গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত রেখে ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে এবং সেনাবাহিনীর চৌকস ইউনিট হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত ও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদবির সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শেষে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন করেন। সেই আলোকে আমরা সেনাবাহিনীর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই পতাকা। এই পতাকা হচ্ছে একটি জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। এই পতাকার মান রক্ষা করা প্রত্যেকেরই দায়িত্ব।

করোনা মহামারি আবার দেখা দিলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি অর্থ খরচ করার বিষয়ে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে। ঠিক যেটুকু আমাদের নেহাত প্রয়োজন, তার বেশি কোনো পয়সা খরচ করা চলবে না।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফায় করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো করোনা ভাইরাসের প্রভাব আছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরেকবার হয়তো এই করোনা ভাইরাসের প্রভাব বা প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। কারণ ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আবার নতুন করে দেখা দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী একটা খাদ্যমন্দা দেখা দিচ্ছে। অনেক উন্নত দেশও হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশে আমরা সঠিক সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলাম বলেই আজকে সেই সমস্যাটা আমাদের দেখা দিচ্ছে না।’ করোনা মোকাবিলায় আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ দেন শেখ হাসিনা।