অচিরেই সরকারকে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হবে :রিজভী

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫০

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল, মত ও বিশ্বাসের মানুষেরা সরকারি সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত। মনে হচ্ছে সরকার দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বরের আগের দিন অন্ধকার রাতে ভোট ডাকাতি ও ভোট হরিলুট সরকারের জন্য শুভবার্তা নয়। এর জন্য অচিরেই বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হবে সরকারকে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ  সংম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, যে দল ভোটে বিজয়ী হয় সাধারণত তাদের কর্মীরাই উত্সব, ভোজ ইত্যাদিতে মেতে থাকে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি রাজনৈতিক দলের তথাকথিত বিজয়ে উত্সব উদ্যাপন করছে। এটা শুধু নজিরবিহীন ও হাস্যকরই নয়,  বিস্ময়করও বটে। এটি গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়।

রিজভী বলেন, এখন সরকারের দমননীতি প্রবল থেকে প্রবলতর করছে। সারা দেশে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে শারীরিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, তাঁদের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে এসে নিজ এলাকায় সমাজসেবা করতে গেলেও আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কথার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপ ও পুনর্নিবাচন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের দাবি হাস্যকর। তাহলে আমি বলতে চাই, শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনটা কি খুবই সম্মানজনক হয়েছে? রাষ্ট্রের সব শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের দমন করে এ রকম ভোটসন্ত্রাসের একতরফা নির্বাচনের পরেও কি এটা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার? অথচ এত বড় নজিরবিহীন ভুয়া ভোটের নির্বাচনের পরেও আত্মমর্যাদাহীন আওয়ামী নেতারা নির্বাচন নিয়ে নির্লজ্জ গলাবাজি করছেন।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, বিশ্বের দেশগুলোর গণতন্ত্রের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। বর্তমানে বাংলাদেশ পূর্ণ গণতন্ত্র বা ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের অবস্থানেও নেই। বাংলাদেশের অবস্থান স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোর সমপর্যায়ে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।