শহর ও শহতলীর বিভিন্ন এলাকায় আবারো গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। শীতের এ মৌসুমে গ্যাসের সংকটের কারণে বিভিন্ন বসত বাড়িতে গৃহিণীরা চরম সমস্যায় পড়ছেন। দিনের বেলায় গ্যাস সংকটের পাশাপাশি রাতেও সংকট দেখা দিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর ও শহরতলীর কোনো কোনো এলাকায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। এরপর সন্ধ্যার পর থেকে গ্যাস থাকলেও এর পরিমাণ খুবই কম থাকে। আবারো রাতের সময়ে গ্যাসের পরিমাণ অনেকটা কমে আসে। তবে অধিকাংশ এলাকায় দুপুর ব্যতীত সকাল বিকেল দু বেলা গ্যাস থাকে না। এরপর সন্ধ্যা থেকে গ্যাস ফিরে এলেও তার পরিমাণ অনেকটা কম থাকে। আবার রাত হতেই গ্যাস চলে যায়। এভাবে গ্যাস নিয়ে তীব্র বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় জনসাধারণকে। রাতের বেলা গ্যাস থাকে বলে অনেক গৃহিণী রাত জেগে রান্না করে থাকেন।
নতুন কোর্ট, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের পাশে, নতুন পালপাড়া, কাশীপুর, ভূইগড়, জামতলা ধোপাপট্টি, আমলাপাড়া, দোওভোগ মাদ্রাসা এলাকা, ফতুল্লার নরসিংপুর, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি, গোগনগর, মাসদাইর, সর্দার পাড়া, তল্লা বড় মসজিদ, পাইকপাড়া, ভোলাইল, জল্লারপাড়া, পাক্কা রোড, রঘুনাথপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে গ্যাস নিয়ে। ১নং বাবুরাইল এলাকার তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘সকাল ৫টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত থাকে না। আবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তাই অনেক সময় মাঝ রাতে জেগে জেগে রান্না করতে হয়। আর দিনের বেলায় ঘুমাতে হয়।
বিভিন্ন এলাকাতে গ্যাস সংকটের কারণে অনেকে ভীষণ সমস্যা পোহাচ্ছেন। আর উপায় না পেয়ে অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মাটির চুলো কিংবা স্টোভ দিয়ে রান্নার কাজ করছে। অন্যদিকে গ্যাসের বৈধ সংযোগ প্রদান বন্ধ থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
দেওভোগ এলাকার ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত অনেক বছর ধরেই গ্যাস সংকটে আমরা ভুগছি। এমপি-মেয়র সবাই আছে তবুও এই সংকট থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। এ নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। গ্যাস ব্যবহার করতে না পারলেও মাস শেষে গ্রাহকেরা বিল পরিশোধ করে যাচ্ছে। গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছে কিনা সেদিকে নজর না দিয়ে প্রায় সময় বিভিন্ন এলাকায় তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস বিচ্ছিন্ন করার জন্য চিরুনি অভিযান চালান। গ্যাস না থাকার কারণে অনেকেই মাটির চুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার কেউবা বাইরের হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সারাদিন পরিশ্রম করে রাতের বেলায় রান্না করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
