নবাবগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:৫২

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় আগলা ইউনিয়নের মকিমপুর মৌজার বিল এলাকার কৃষক সামছুল হক গংদের ফসলি জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে ইটের ভাটায় বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম গংরা। বাধা দিতে গেলে অস্ত্রের ভয় দেখায়। থানায় অভিযোগ করার পরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না এমনটাই অভিযোগ করলেন সেখানকার অসহায় কৃষিজমির মালিকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার কৈলাইল এলাকার শাইলকা ঘাটের বিপরীতে ইছামতি নদীর পাড় ঘেঁষা মকিমপুর মৌজার বিল। নদীর পাশে অনেকের আবাদি জমি রয়েছে। সেই ফসলি জমির টপ সয়েল এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাতে কিংবা ভোরের দিকে সুবিধা মতো সময়ে ঘাটে ট্রলার ভিড়িয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক মাটি কাটার শ্রমিক লাগিয়ে জমির মাটি কেটে নিয়ে ইটের ভাটায় বিক্রি করছে। দেখে মনে হয় পুকুর খননের কাজ চলছে। মাটিকাটার সময়ে জমির মালিকরা বাধা দিতে গেলে নজরুল ইসলাম গংরা তাদেরকে অস্ত্র দেখিয়ে ভীতি প্রদর্শন করে। প্রাণের ভয়ে পরে আর তারা নিজের জমির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পায় না। এমনটাই জানালেন সেখানকার জমির মালিকরা।

 জমির মালিক সামছুল হক জানান, আমার জমির মাটি কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলছে। বাধা দিতে গেলে আমাকে ও আমার ছেলে সবুজকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মারপিট করার চেষ্টা করে এবং জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। নজরুলের সহযোগী আগলা পূর্ব পাড়া গ্রামের মৃত আনছার মোল্লার ছেলে মানোয়ার মোল্লা (৩০) ও সিরাজ মোল্লার ছেলে আমানকে (২৮) আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় আমার ছেলে সবুজ খান বাদী হয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছে।

জমির আরেক মালিক জুলেখা বেগম বলেন, জমি থেকে যে ধান পেতাম তাতে সারাবছর আমার সংসার চলে যেত। যেভাবে তারা আমার জমির মাটি কাটছে এতে করে আমার আর দুঃখের শেষ থাকবে না। প্রশাসনের কাছে আমার মিনতি তারা যেন অবিলম্বে এই মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম বলেন, আমি একসময় মাটির ব্যবসা করতাম এখন ছেড়ে দিয়েছি। অন্যরা রাতের আঁধারে ড্রেজার লাগিয়ে মাটি কেটে নেয়। থানায় আমি কয়েকবার অভিযোগ করেছি। কেউ হয়তো আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে। অস্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার লাইসেন্স করা অস্ত্র আছে। গ্রামের কেউ বলতে পারবে না কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়েছি।

মাটি খেকো মানোয়ার মোল্লা বলেন, সামছুল ও তার ছেলে সবুজ নিজেরাই তাদের জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে অথচ আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা কারো জমির মাটি কাটছি না। তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

নবাবগঞ্জ থানা অফিসার্স ইনচার্জ মোস্তফা কামাল সাধারণ ডায়েরির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।