নাটকীয়তায় ভরা খেলায় সুপার ওভারে জিতে শেষ হাসি হাসলো মুশফিকুর রহিমের চিটাগং ভাইকিংস। দলের জয়ে বড় অবদান ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার রবি ফ্রাইলিঙ্কের।
গতকাল শনিবার খুলনা টাইটান্সকে হারিয়ে বিপিএলের এবারের আসরে দ্বিতীয় জয় তুলে নিল চিটাগং। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয়টির সুবাদে চট্টগ্রামের দলটি পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে উঠে এলো। অপরদিকে টানা চতুর্থ হারে খুলনা সর্বনিম্ন স্থানেই থাকলো।
পরে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ৩২ রানে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। টানা চার ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন সাকিব আল হাসানের ঢাকা।
চিটাগং ও খুলনার দলদুটি নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫১ রানেই খেলা শেষ করায় এদিন প্রথমবারের মতো বিপিএলে সুপার ওভারের প্রয়োজন পড়ে। বিপিএলের ইতিহাসেই এটা প্রথম সুপারওভারে শেষ হওয়া ম্যাচ।
মুশফিকের দল এতে ১১ রান করেই জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়। চিটাগং ভাইকিংসকে প্রথম বলেই চার মেরে আশা জাগান ডেলপোর্ট। দ্বিতীয় বলে এক রানের পর তৃতীয়টিতে ফ্রাইলিঙ্ক চার মারেন। চতুর্থ তিনি বোল্ড হয়ে গেলে মুশফিকুর পঞ্চম বলে আরেক রান যোগ করেন। পরের দুই বলে ডেলফোর্ট দুটি সিঙ্গেল নেন।
খুলনা ১২ রানের লক্ষ্য পেলেও দলটি কেবল একবারই চারের মার মারতে পেরেছিল। প্রথম বলে এক রানের পর মালানই ওই চারটি মেরেছিলেন। তারপরও দুই উইকেট হারিয়ে ১০ রানে সুপার ওভার শেষ করে তারা।
ফ্রাইলিঙ্কই ছিলেন কালকের এ খেলাটিতে মূল ম্যাচ ও সুপার ওভারে চিটাগংয়ের জয়ের নায়ক । জয়ের আনন্দে আত্মহারা মুশফিক তো দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলরাউন্ডারের কোলেই চড়ে বসেন খেলা শেষে।
খুলনার দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শেষ ওভারে চিটাগংয়ের যখন জয়ের জন্য ১৯ রানের দরকার সেই সময়েও বুক চিতিয়ে দাঁড়ান এই ফ্রাইলিঙ্ক। আরিফুল হকের প্রথম বলে কোনো রান পাননি নাঈম হাসান। দ্বিতীয়টিতে তিনি ছক্কা মারতে সক্ষম হলেও তৃতীয় বলে আউট হয়ে যান। সাত নম্বরে নামা ফ্রাইলিঙ্ক স্ট্রাইকে এসে চতুর্থ ও পঞ্চম বলে দুটি বিশাল ছক্কা মারলে দুদলের রান সমান হয়ে যায়।
সঙ্গত কারণেই ম্যাচটি টাই হয় এবং সুপার ওভারে গড়ায়। পরে সুপার ওভারেও জয় পায় চিটাগং। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরা হন চিটাগংয়ের অলরাউন্ডার ফ্রাইলিঙ্ক।
গতকাল দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকার কাছে পাত্তাই পায়নি সিলেট। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে ঢাকা। রনি তালুকদার ৩৪ বলে ৫৮ রান (৫ চার, ৩ ছয়) করেন। এছাড়া নারিন ২৫, সাকিব ২৩, নাঈম শেখ অপরাজিত ২৫, নুরুল হাসান অপরাজিত ১৮ রান করেন। সিলেটের তাসকিন নেন তিন উইকেট। ১৭৪ রানের টার্গেট পাড়ি দেওয়ার চাপটা সামাল দিতে পারে ডেভিড ওয়ার্নারের সিলেট। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারণে ৯ উইকেটে ১৪১ রানের বেশি যেতে পারেনি সিলেট। ৪৭ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন নিকোলাস পুরান। সাব্বির রহমান ১২, তাসকিন অপরাজিত ১৮ রান করেন। ঢাকার পক্ষে রুবেল তিনটি, সাকিব-শুভাগত দুটি করে উইকেট পান।
