দেশের প্রথম ওয়ান স্টপ শিক্ষা বিষয়ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান লিডসাস আগামীকাল (১৫ অক্টোবর) পা রাখবে সাফল্যের ৫ বছরে। একটি পরিপূর্ণ আধুনিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ও অ্যানিমেশন, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, লজিস্টিকস সাপোর্ট, ষ্টেশনারি ও পাবলিকেশন, স্টুডেন্ট এসেন্সিয়াল, ডিজিটাল ইক্যুপমেন্ট ও অ্যাকসেসরিজসহ প্রায় ১০টি বিভাগে ভাগ হয়ে ১০০টিরও অধিক সেবা প্রদান করে যাচ্ছে ২০১৫ সাল থেকে। দেশের নানা খাতে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবার চাহিদা মেটাতে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে তার মধ্যে লিডসাস অন্যতম।
এছাড়াও তরুণদের কর্পোরেট দক্ষতা বৃদ্ধি ও সফল উদ্যোক্তা তৈরির জন্য দিনব্যাপী স্কিল এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট গাইডলাইন প্রোগ্রাম হচ্ছে লিডসাসের নিয়মিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রোগ্রামগুলোতে আন্তর্জাতিক ও দেশবরেণ্য সফল ব্যক্তিগণ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্পোরেট স্কিল ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রদান করে অনুপ্রাণিত করেন। দেশের তরুণদের বেকারত্ব গোছানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের কাজের সুযোগ করে দিতে এই ধরনের কার্যক্রমগুলোও বেশ ফলপ্রসূ।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গত ৫ বছরেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছে গেছে লিডসাস। বর্তমানে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী পৃথিবীর দ্রুততম মানব ক্যালকুলেটর ভানু প্রকাশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এক্সপ্লোরিং ইনফিনিটিজের পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে। পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্যোক্তা সংগঠন ‘গ্লোবাল এন্ট্রপেনারশিপ বুটক্যাম্প’, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘ক্লিনটন ফাউন্ডেশন’ এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্কুল দ্ব্বারা পরিচালিত ‘হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশন’, বিশ্বের তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে জাতিসংঘ প্রণীত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা নরওয়ে ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান YSI, থাইল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন 'O-Yes global Foundation' সহ শুধুমাত্র নারীদের জন্য আয়োজিত চায়না ভিত্তিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান 'She Loves Tech'-এর সঙ্গে কাজ করেছে লিডসাস। কর্মগুণে টোকেন অফ লাভ, অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর ট্রেমেনডাস সাপোর্টসহ সম্মানজনক পুরস্কার অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি অনলাইনে চলছে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক সফটওয়ারগুলোর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে সবাই। অধিকাংশ সময়ই নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি তো রয়েছেই। এসব মাথায় রেখে গত জুন মাসে অনলাইন ক্লাসরুম সেবা প্রদানের ঘোষণা দেয় লিডসাস। শীঘ্রই ই-স্টাডি সম্বলিত নানান ফিচার নিয়ে ওয়েব এপ্লিকেশন সহ সফটওয়্যারটি বাজারে আসবে। বর্তমানে লিডসাস কর্মসংস্থানের যোগান দিয়েছে প্রায় সহস্রাধিক মানুষের। ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়ছেই। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। আর এর পিছনে যে মানুষটি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি সাদিক আল সরকার; প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সাদিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে লিডসাসের ভূমিকা নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। দেশে কাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মতো দক্ষতা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা প্রসারিত করার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসায়ীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছেন। তরুণদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলায় তৈরি হচ্ছে নতুন খাত। যার জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে মাধ্যম আয়ের দেশের কাতারে। আর এই উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করতে লিডসাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল করতে বড় ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে।
