বিমানবন্দরে ২৪ কোটি টাকার শক্তিশালী মাদক অ্যামফিটামিন জব্দ করার ঘটনায় গ্রেফতার করা ১৩ ব্যক্তির মধ্যে পাঁচজন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ওই ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় আদালত তাদের জামিন দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। জামিন প্রাপ্তরা হলেন- বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেডের এক্সিকিউটর ডিরেক্টর (অর্থ) খন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ ও সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) রাসেল মাহমুদ, এক্সপোর্ট কার্গোর ভেতরে এমজিএইচ গ্রুপের লোডিং সুপারভাইজার কাজল টি গোমেজ, কার্গো হেলপার/লোডার হামিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম। এদের মধ্যে দুজন ফেডেক্সের কর্মকর্তা এবং বাকী তিনজন ফেডেক্স মনোনীত ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কোম্পানির ৩ জন লোডার ও সুপারভাইজার।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ফজলুল হক জানিয়েছেন, মামলা হবার আগে (মাদক জব্দ হবার পরে ) যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো সেখান থেকে পাঁচজন গতকাল বুধবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন হলেন, খন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ এবং রাসেল মাহমুদ। এরা দুজন বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেডের কর্মকর্তা। মামলাটি তদন্তনাধীন থাকায় তিনি এর বেশিকিছু জানাতে রাজী হননি।
উল্লেখ্য,গত ৯ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমন্বিত অভিযানে জব্দ করা হয় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াগামী শক্তিশালি মাদক অ্যামফিটামিন পাউডারে ১৪টি বড় প্যাকেট ( পোশাকের ৭ কার্টনে রাখা ছিল, ওজন ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম)। যার মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
প্রায় একমাস এ সংক্রান্ত মামলাটি তদন্ত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। অধিদফরের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগ তদন্ত করার পর গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার। তিনি জানান, মামলার তদন্তকালীন সময়ে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী বেশ কয়েকজন ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মাদক পাচারের মুল হোতা মো. রুবেল হোসেনকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। তবে প্রযুক্তির সহায়তায় তার ভগ্নিপতি মো. মাজেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রুবেলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া স্কান গ্লোবাল লজিস্টিকস এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেইট এন্ড লজিস্টিকস এর লোডিং সুপারভাইজার রেজাউল হক বাবলুকেও গ্রেফতার করা হয়। শিপমেন্টের এয়ারওয়ে বিলে উল্লেখিত নাম এবং মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে শিপমেন্টের প্যাকেজিং ও পাচারের সাথে জড়িত জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিকী, মো. নজরুল ইসলাম, বাবুল মজুমদার এবং বাপ্পীকে গ্রেফতার করা হয়।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিকী এবং মো. নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন যে, তারা মিডফোর্ডের কেমিক্যাল ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম আজাদ বান্টির কাছ থেকে এমফিটামিন কিনেছেন। বান্টি জানান, মাদকগুলো তিনি পাশ্ববর্তী দেশের কেমিক্যাল ব্যবসায়ী হাবিব মাস্টারের মাধ্যেমে চোরাইপথে সংগ্রহ করতো। এ কাজে আরো দুজন সহযোগী দীন ইসলাম সাইফুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে মোহাম্মদ আহসানুল জাব্বার জানান।
তিনি আরো জানান, জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিকী, মো. নজরুল ইসলাম এবং কেমিক্যাল ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম আজাদ বান্টি পাশ্ববর্তী দেশ থেকে সংগ্রহ করে প্রায় সাড়ে ১২ কেজি এমফিটামিন মাদক সংগ্রহ করেছেন। এরপর তারা পোষাকের স্যাম্পল পাঠানোর আড়ালে উল্লেখিত মাদক পাচারের চেষ্টা করেছেন। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, এই ঘটনায় যাতে কোন নিরপরাধ ব্যাক্তি কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে ফেডেক্সের দুজন কর্মকর্তা এবং ফেডেক্স মনোনীত ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কোম্পানির ৩ জন লোডার ও সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা থাকার কোন অভিযোগ আনা হয়নি।
ইত্তেফাক/আরএ
