খলিফার পুত্র

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ২১:০০

পারস্যে একদা আল মামুন নামে এক খলিফা ছিলেন। তিনি তার দুই ছেলেকে সত্ এবং জ্ঞানী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। অতএব আল ফারা নামের একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে তিনি তাদের শিক্ষক নিযুক্ত করলেন। একদিন পড়া শেষ হওয়ার পর আল ফারা রাজপ্রাসাদ থেকে চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। খলিফার দুই ছেলে তাকে বসা থেকে উঠতে দেখেই শিক্ষকের জুতা আনার জন্য দরজার দিকে ছুটে গেল। সে দেশে লোকজন বাড়ির ভেতর কখনো জুতা পরতো না, দরজার বাইরে জুতা রেখে আসত। দুই বালকই শিক্ষকের জুতা আনার জন্য দৌড়ে গেল এবং দুজনেই ওদের শিক্ষকের জুতা বয়ে আনার সম্মান নিতে চাইল। তবে একারণে ওরা কলহ করার সাহস পেল না এবং শেষ পর্যন্ত ওরা একমত হলো যে, একেকজন এক পাটি করে জুতা বহন করবে। তাহলে এভাবে দুজনেই এই সম্মানের ভাগিদার হবে। খলিফা যখন ঘটনাটি শুনলেন, তখন তিনি আল ফারাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মানুষের মধ্যে কে সবচেয়ে সম্মানের অধিকারী?’

শিক্ষক উত্তর দিলেন, ‘আমি আপনার চেয়ে সম্মানীয় আর কোনো মানুষ দেখি না।’  

খলিফা বললেন, ‘না, না। আপনি হচ্ছেন সেই মানুষ, যিনি বের হওয়ার জন্য বসা থেকে উঠতেই দুজন বালক রাজপুত্র তার জুতা এনে দেওয়ার সম্মানের অধিকারী হওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ওরা একেকজন এক পাটি করে জুতা বয়ে আনতে রাজি হলো।’

আল ফারা উত্তর দিলেন, ‘জাহাঁপনা, আমার ওদেরকে এটা করতে বারণ করা উচিত ছিল, তবে ওদেরকে নিরুত্সাহিত করতে ভয় পেলাম। আশা করি আর কখনো এমন কিছু করব না, যাতে ওরা ওদের কর্তব্য পালনের ব্যাপারে অসাবধান হয়।’

খলিফা বললেন, ‘দেখুন, আপনি যদি এভাবে আপনার প্রতি সম্মান দেখানোতে ওদেরকে নিষেধ করতেন, তবে আমি বলতাম যে, আপনি ওদেরকে ভুল শিক্ষা দিচ্ছেন। ওরা এমন কিছু করেনি, যাতে রাজপুত্রের মর্যাদাহানি হয়। আসলে আপনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওরা নিজেদেরই সম্মানিত করল।’ আল ফারা মাথা নুইয়ে খলিফার প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন, তবে কিছু বললেন না। তারপর খলিফা আবার বললেন, ‘কোনো যুবক বা বালক এমন উঁচু পদের হতে পারে না যে, তাদের তিনটি প্রধান দায়িত্ব অবহেলা করবে : তাকে অবশ্যই তার শাসককে সম্মান করতে হবে, তার পিতাকে ভালোবাসতে এবং মান্য করতে হবে এবং অবশ্যই তার শিক্ষককে সম্মান করতে হবে।’

তারপর তিনি দুই বালক রাজপুত্রকে ডেকে, এই মহত্কাজের পুরস্কারস্বরূপ তাদের পকেটভর্তি স্বর্ণমুদ্রা উপহার দিলেন।