রশীদ হায়দারের জন্য ব্যক্ত বেদনা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ২১:০৪

চলে গেলেন লেখক, গবেষক রশীদ হায়দার। তাঁর চলে যাওয়ায় কবি, শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রশীদ হায়দারের অভাব বোধ করতে শুরু করেছেন অনেকে। ইন্টারনেটের যুগে মানুষ নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে থাকেন সাধারণত ফেসবুকের মাধ্যমে। এখানে দেশের তিন গুণীজনের ভাবনা তুলে ধরা গেল।

মঈনুল আহসান সাবের

সম্ভবত গত ফেব্রুয়ারি মাসে আপনার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছে। মাকিদ হায়দার ভাইয়ের বাংলা একাডেমি পাওয়ার পর। আপনি প্রায়ই ফোন করতেন। করা উচিত ছিল আমার, করতেন আপনি! রাজ্যের খবর নিতেন, মতামত জানাতেন, কখনো মৃদু ক্ষোভ থাকত গলায়। গত কয়েক মাস ফোন করিনি, আপনিও করেননি। শরীর বেশি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল, রশীদ, রশীদ হায়দার ভাই?

আমাদের বেড়ে ওঠার সময়কার আপনারা সবাই একেএকে চলে যাচ্ছেন।

অনেকবার বলেছি, আরেকবার বলি, আপনার ‘অন্ধ কথামালা’ আমার খুব প্রিয়।

 

আবু হাসান শাহরিয়ার

পরিচয় বাংলা একাডেমিতে। গত শতকের সাতের দশকে। শেষদেখা ২০১৭য়— তুষার আব্দুল্লাহ প্রযোজিত সময় টেলিভিশনের এক সংলাপ-অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংকালে। পরিচয় থেকে শেষসাক্ষাতের মধ্যবর্তী কালখণ্ডে বিস্তর দেখাদেখির বিবিধ আখ্যান। হায়দার পরিবারের সবাই শিল্পসাহিত্যের ভুবনে স্বনামখ্যাত মানুষ। ভাষাচিত্রী রশীদ হায়দারের চেয়েও আমার বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিল তার অগ্রজ নাট্যব্যক্তিত্ব জিয়া হায়দারের সঙ্গে। বন্ধুসুবাদে তার চেয়েও বেশি ঘনিষ্ঠ— কবি জাহিদ হায়দার। তো, সময় টেলিভিশনের সেই রেকর্ডিংকালে রশীদ ভাইকে আমি প্রথম লাঠিহাতে দেখেছিলাম। জিজ্ঞাসিত হলে বলেছিলেন— ‘লাঠিটা আমার পায়ের গানম্যান। হোঁচট-পতন থেকে সুরক্ষা দেয়।’

সব সুরক্ষা-শুশ্রূষা উপেক্ষা করে রশীদ হায়দার চির অজানার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। চিরকুর্নিশ, হে প্রণম্য অগ্রজ।

 

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

শেখ ফয়সাল আবদুর রশীদ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন হায়দারের লেখক নাম রশীদ হায়দার। তিনি আর নেই! খবরটা জেনেই চমকে উঠলাম। তিনি মজা করে নিজেকে বলতেন— ‘আমাদের জীবন্ত শহীদ বুদ্ধিজীবী’। এই জীবন্ত বুদ্ধিজীবী আর জীবন্ত নেই! চলে গেলেন না ফেরার দেশে। কী আফসোস, মিরপুরে থাকতেন আমাদের বাসার কাছাকাছি। কাডানায় আসার আগে দেখা হয়েছিলো ২০০৪ সালে। তখন জার্মানি যাবার আগে বাসায় গিয়েছিলাম। এই হায়দার পরিবারের সব ক’টি ভাইয়ের সাথে মধুর সম্পর্ক! তিনি দাউদ হায়দারের জন্য নিমপাতা, চিরতা ইত্যাদি দিবেন বলে! তারপর আর দেখা হয়েছে কি না মনে পড়ছে না। তবে ফোনে কথা হতো।

প্রতিবার দেশে যাই। বলেছি—‘দেখা করবো। করবো-করবো করে আর সময় হয়ে ওঠে না! ক্ষমা করবেন মিতা।

হ্যাঁ, মিতা। তাঁর সার্টিফিকেটে দীর্ঘ নাম, লেখক নাম ছাড়াও ডাক ছিল— দুলাল। একবার একটি বই উপহার দিয়ে অটোগ্রাফে লিখে দিয়েছিলেন দুই লাইনের পদ্য :

‘দুলাল তো আমারও ডাক নাম—

তাই দুলালকে ভালো বাসলাম’।

তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

রশীদ হায়দার [ ১৫ জুলাই ১৯৪১—১৩ অক্টোবর ২০২০]