আসমানি গ্রন্থসমূহের নিদর্শন :আকাশ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৬

নিশ্চয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছেন। সর্বশেষ আসমানিগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন! কে মালিক সাত আসমানের এবং মহা আরশের অধিপতি কে?’ (সুরা-২৩ :মুমিনুন :৯৬), ‘তারা কি তাদের  ঊর্ধ্বস্থিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না আমি কীভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং তাতে কোনো ফাটল নেই?’ (সুরা-৫০ :ক্বাফ :৬) ‘অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন, যা ছিল ধূম্রপুঞ্জবিশেষ। অনন্তর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে আমার আদেশ পালনের জন্য প্রস্তুত হও ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।’ তারা বলল, ‘আমরা তো আনুগত্যের সঙ্গে প্রস্তুত আছি।’ অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলকে দুই দিনে সপ্তাকাশে পরিণত করলেন এবং তিনি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করলেন প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলেন সুরক্ষিত। এসব পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ কর্তৃক সুবিন্যস্ত।’ (সুরা :৪১ হামিম আসসিজদা :১১-১২)

অন্যত্র আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তিনি এমন, যিনি পয়দা করেছেন তোমাদের মঙ্গলের জন্য দুনিয়ার সবকিছু। পরে মনোযোগ দিলেন আসামনের প্রতি এবং নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করলেন তাকে সাত আসমানরূপে। বস্তুত তিনি তো সমস্ত বিষয়েই পূর্ণ জ্ঞাত।’ (সুরা :২ বাকারা :২৯) ‘তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানগুলো ও পৃথিবী ছয় দিনে বানিয়ে তারপর আরশে আসন নেন।’ (সুরা :৭ আরাফ :৫৪) ‘আসমান ও জমিন ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল, তারপর আমি উভয়কে আলাদা করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু আমি সৃষ্টি করলাম পানি থেকে।’ (সুরা-২১ :আম্বিয়া :৩০) ‘এই কোরআন এমন সত্তার তরফ থেকে নাজিল করা হয়েছে, যিনি সৃষ্টি করেছেন জমিনকে এবং সুউচ্চ আকাশ।’ (সুরা :২০ ত্বহা :৪) ‘তোমাদের সৃষ্টি কঠিনতর, না আকাশের? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন; তিনি এটাকে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন।’ (সুরা-৭৯ :নাজিয়াত :২৭-২৮) এছাড়া আকাশ সৃষ্টি সম্পর্কে সুরা আরাফ, ইউনুস, হাদিদ ও শামসসহ অন্যান্য সুরায়ও উল্লেখ আছে। হজরত মুসা (আ.)-এর প্রতি অবতীর্ণ পবিত্র তাওরাতের দুনিয়া সৃষ্টির বিবরণ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে। তারপর ঈশ্বর বললেন, ‘পানির মধ্যে একটা ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হোক আর তাতে পানি দুই ভাগ হয়ে যাক। এভাবে ঈশ্বর পানির মধ্যে একটা ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করলেন এবং নিচের পানি ও ওপরের পানি আলাদা করলেন। তাতে ওপরের পানি ও নিচের পানি আলাদা হয়ে গেল। ঈশ্বর যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করেছিলেন, তার নাম তিনি দিলেন আকাশ। এভাবে সন্ধ্যাও গেল, সকালও গেল। আর সেটাই ছিল দ্বিতীয় দিন।’ (পয়দাদেশ :৬-৮)

lলেখক :প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, টিঅ্যান্ডটি কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা