ধর্ষণ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও সচেতনতা সৃষ্টির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্ষণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ইদানীং ধর্ষণ ব্যাপকভাবে হচ্ছে এবং প্রচারও হচ্ছে। এটার যত বেশি প্রচার হয় প্রাদুর্ভাবটাও তত বাড়ে। এ ধরনের ঘটনা (ধর্ষণ) রোধ করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংযুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। মানুষের মধ্যেও জনসচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ৭০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী এবং সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই কোনো ধরনের অন্যায়-অবিচার যেন না হয়। মানুষ যাতে ন্যায়বিচার পায়। মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কারণ আমি জানি যে, বিচার না পেলে কী কষ্ট। আমার বাবা-মা, ভাই, ভাতৃবধূ—তাদেরকে যখন হত্যা করা হয়, খুনিদেরকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল। আমার বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের পরিবারের কারোরই বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবা-মা, ভাই মারা গেছে আমি একটা মামলাও করতে পারিনি। আমার সেই অধিকারটাও ছিল না। এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে যেন আর না থাকে।

তার সরকার ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল বলেই জাতির পিতার খুনি এবং দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

বর্তমান সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলেন আপনারাই থাকবেন আগামী দিনের কর্ণধার। আপনারাই দেশটাকে পরিচালনা করে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আজকের যারা নতুন প্রজন্ম তারই ২০৪১-এর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়েই আমাদের কর্মচারীরা দেশ এবং জনগণের সেবা করবে, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা দেশ স্বাধীন হবার পরই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে সংস্কারের মাধ্যমে স্বাধীন দেশের উপযোগী সিভিল সার্ভিস গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া জাতির পিতার একটি ভাষণেরও উদ্ধৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা তার ভাষণে বলেন, ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনা দেয় ঐ গরিব কৃষক, আপনার মাইনা দেয় ঐ গরিব শ্রমিক, আপনার সংসার চলে ঐ টাকায়, আমি গাড়ি চড়ি ঐ টাকায়, ওদের সম্মান করে কথা বলেন, ওদের ইজ্জত করে কথা বলেন, ওরাই মালিক।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘আজকে যারা নবীন কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাদের কিন্তু ঐ কথাটাই মনে রাখতে হবে যে, এই দেশের গরিব মানুষ যারা বা এখনো তৃণমূলে যারা পড়ে রয়েছেন তারাই এদেশের মালিক। আর তাদের ঘর থেকেই লেখাপড়া শিখে আজকে উঠে এসেছেন। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখে তাদের সেবা করাটাই হবে সব থেকে বড় দায়িত্ব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে গণভবন থেকে সাভারস্থ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মূল অনুষ্ঠানস্থলসহ দেশের সাতটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। বিপিএটিসির রেক্টর মো. রাকিব হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে সনদ বিতরণ করেন। এবারের ছয় মাসব্যাপী কোর্সটির শেষ একমাস করোনার কারণে অনলাইনে সমাপ্ত করা হয়।