সীমান্তবর্তী চারটি পয়েন্ট থেকে আসে গাঁজা। সীমান্তগুলো হলো—কুমিল্লার কসবা, হবিগঞ্জ, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে এসব এলাকায় রয়েছে বিপুলসংখ্যক মাদক কারবারি। আবার এরাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করে। মাদকের চালান নিয়ে যখন নিজেদের মধ্যে লেনদেনে বিরোধ হয় তখনই এদের কেউ না কেই ঢাকায় চালান আসার খবর পুলিশকে জানিয়ে দেয়। এমনই তথ্য জানিয়েছেন সম্প্রতি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে মাদকসহ আটক হওয়া বেশ কয়েকজন মাদক কারবারি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর (গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম) সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজিব আহম্মদ পাটওয়ারী। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে ৫৬ কেজি মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছে আমিনুল ইসলাম বাপ্পি ও আবু কাউছার খাঁ। দুই জনের বাড়িই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এদের মধ্যে বাপ্পি আগেও মাদকসহ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। কয়েক মাস জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে আবারও ফিরে আসে মাদক কারবারে।
মুজিব আহম্মদ পাটওয়ারী বলেন, বর্তমানে সীমান্তের চারটি পয়েন্ট থেকে মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশ করছে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যমতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদক আসে নৌপথে, কসবা, হবিগঞ্জে আসে সড়কপথে। আর ফেনীর সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সুপারিবাগানে সীমান্তের ওপারের মাদক কারবারিরা গভীর রাতে গাঁজার প্যাকেট সুপারি গাছে বেঁধে রেখে যায়। পরে দেশীয় মাদক কারবারিরা তা সংগ্রহ করে। আর টাকার লেনদেন হয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।
গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে রাজধানী পর্যন্ত মাদক পৌঁছাতে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে থাকে তারা। কিন্তু চালান নিয়ে কোনো গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলেও তারা তাদের রাজধানীর সহযোগীদের জানিয়ে দেয়। আর রাজধানীর সহযোগীরাই পুলিশকে অবহিত করে। আর এ কারণে মাদকদ্রব্য ধরা পড়ে। তবে প্রতিদিন যে পরিমাণ মাদক আসে ধরা পড়ে তার খুব সামান্যই।
যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ৪৬ কেজি গাঁজা জব্দ করার ব্যাপারে মুজিব আহম্মদ পাটওয়ারী বলেন, সোর্সের দেওয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই গোয়েন্দ পুলিশ কাজলা ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়। পরবর্তী সময় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ব্রিজসংলগ্ন ডাবের আড়তের সামনে থেকে আমিনুল ইসলাম বাপ্পি ও আবু কাউছার খাঁকে আটক করা হয়। তারা বাসের ছাদে ছালার বস্তায় করে গাঁজার চালান নিয়ে আসে। বাস থেকে নামাবার পর তারাসহ আরো দুই জন মাথায় করে বস্তা সরাচ্ছিল। তবে আটকের সময় আমিনুল ইসলাম বাপ্পি ও আবু কাউছারের অন্য দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে গড়ে উঠেছে গাঁজার আড়ত। সেখান থেকে তারা প্রতি কেজি সংগ্রহ করে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। আর ঢাকায় এনে বিক্রি করে প্রতি কেজি ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকায়। অন্যদিকে গত রবিবার রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ১৬ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাবেদ আলী ওরফে ফারুক, ইয়াকুব আলী মো. মিলন। থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরাও প্রায় একই ধরনের তথ্য দিয়েছে।
