অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী, যিনি মঈন নামে সর্বাধিক পরিচিত। একাধারে খণ্ডকালীন অধ্যপনায়, কর্পোরেট প্রশিক্ষণে, মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকাণ্ডে এবং এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফোরামের সক্রিয় নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। সফল একজন কর্পোরেট ট্রেনার এবং খ্যাতনামা আইইউবি, বিইউপিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটের সবার প্রিয় শিক্ষক। বর্তমানে সোসাইটি ফর লিডারশিপ স্কিলস ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে কর্মরত আছেন। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন বেনজির আবরার
ক্যারিয়ার শুরু হলো যেভাবে
ছেলেবেলা থেকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়টা আমাকে অনুপ্রাণিত করত। বিশ্বাস করতাম যে, একজন শিক্ষক চাইলেই যেকোনো শিক্ষার্থীর জীবন পাল্টে দিতে পারে উত্সাহ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে। সেই ভাবনা থেকে প্রথমে শিক্ষকতা এবং পরবর্তীতে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ততা। বর্তমানে আমি একজন সারটিফাইড লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রফেশনাল এবং সারটিফাইড পিপিএ প্র্যাকটিশনার। এইচআরএম ও এইচআরডির ওপর দেশ-বিদেশে ডিপ্লোমা করেছি। এ ছাড়া প্রশিক্ষণের ওপর দেশ-বিদেশে টিওটি করেছি বহুবার। এভাবে পার করলাম শিক্ষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে প্রায় ১৫ বছরের জীবন।
ট্রেনিং ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন
বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্যে প্রশিক্ষণকে একসময় খরচের খাত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে পারছে যে, আসলে প্রশিক্ষণ একটি বিনিয়োগ এবং ব্যবসা প্রসারের একটি অন্যতম উপাদান। আমার প্রশিক্ষণের প্রতিটি বিষয়বস্তু একজন মানুষের সঠিক জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্প্রসারণের বিষয়টিকে লক্ষ্য রেখে তৈরি করা। মনে রাখতে হবে শিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ বিষয়টি অতি নাজুক ও সূক্ষ্ম। অন্য পণ্যের মতো চটকদার কথা দিয়ে এটাকে সফল করা যাবে না। মূল্যবোধহীন, স্বল্পজ্ঞান সম্পন্ন মোটিভেশনাল স্পিকার খ্যাত চটকদার ট্রেনারদের কাছ থেকে সাবধান থাকতে হবে। দক্ষতা ও মূল্যবোধহীন মোটিভেশন দীর্ঘমেয়াদে অর্থহীন। শিল্প-বাণিজ্যে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দিনে দিনে বাড়ছে।
পেশাগত জীবনের টার্নিং পয়েন্ট সম্পর্কে কিছু বলুন
আমার জীবনের প্রথম অংশে শিক্ষকতা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করি। তারপর ৫ বছর দুটো কর্পোরেটে হেড অব লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট হিসেবে। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বড় আকারে এবং হাতে কলমে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ আসে যখন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলওতে মানব সম্পদ বিষয়ক পরামর্শক বা এইচআরডি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করি। তখনই আমি আমার বর্তমান সংস্থা ‘সোসাইটি ফর লিডারশিপ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ বা সংক্ষেপে এসএলএসডি গঠন করি। তাই আইএলও এবং এসএলএসডি আমার পেশাগত জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট।
আপনার সংস্থার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলুন
সোসাইটি ফর লিডারশিপ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট বা সংক্ষেপে এসএলএসডি এ পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০-এর বেশি কোম্পানি বা সংস্থার সঙ্গে প্রশিক্ষণের কাজ করেছে। এসএলএসডি মূলত সফট স্কিলস বা কোমল দক্ষতা নিয়ে কাজ করে। আমাদের প্রশিক্ষণের তালিকায় আছে লিডারশিপ, টীম বিল্ডিং, কমিউনিকেশনস, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, নেগোসিয়েশন, কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট, কাস্টমার কেয়ার ইত্যাদি। আসছে ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ গোল সেটিং বা লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে একটি কর্মশালা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের সিইও হাসান জাবেদ চৌধুরী এবং ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেক বিশেষজ্ঞ থাকবেন। এই কর্মশালায় যারা অংশগ্রহণ করবেন তারা এই ২০১৯ জুড়ে প্রতি চার মাস অন্তর মিলিত হবেন নিজ নিজ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করার দিক নির্দেশনা পাওয়ার জন্য। এ ছাড়া ট্রেইনিং অব ট্রেনারস বা টিওটির ওপর দু দিনব্যাপী একটি কর্মশালা হবে আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি। এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন এফবিএইচআরও-এর প্রেসিডেন্ট মো. মোশারফ হোসেন। ২০১৯-এ এসএলএসডি আয়োজন করবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজনেস লিডারস কারনিভাল ও সামিট। এ ছাড়া প্রতিমাসে এসএলএসডি আয়োজন করবে নানা বিষয়ের উপর শিল্প সংশ্লিষ্ট যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ।
