তিনি নিজেই নিজের বাল্যবিবাহ ভেঙেছেন, সমমনাদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন বাল্যবিবাহর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ। এর জন্য সমাজের মানুষের কম নিন্দা শুনতে হয়নি তাকে। বলছিলাম সাতক্ষীরা তালা উপজেলার প্রত্যন্ত শ্রীমন্তকাটি গ্রামের হীরা পারভীনের কথা। সামাজিক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তার সংগঠন জাগরণ ক্লাব সম্প্রতি পেয়েছে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ।
জাগরণ ক্লাবের শুরুটা হয়েছিল ২০১২ সালে। প্রথম দিকে সংগঠনটি খেলাধুলাকেন্দ্রিক থাকলেও বর্তমানে সমাজ সচেতনতামূলক কাজ বেশি করছে। সংগঠনটির সভাপতি এএইচএম রায়হান লিটু জানান, বাল্যবিবাহ, নারী প্রতি সহিংসতা, যৌতুক রোধে কাজ করছে জাগরণ ক্লাব। জাগরণ ক্লাব প্রায় ৬০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের লেখাপড়া যাতে চলে সে দিকে নজর দিয়ে এসেছে। এই জন্য সামাজিক অনেক বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে সংগঠনটিকে।
বর্তমানে স্কুল-কলেজে পড়া তরুণ-তরুণীসহ এলাকার প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ জাগরণ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে জাগরণ ক্লাব ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ অর্জন করেছে।
জাগরণ ক্লাবের সংগঠক হীরা পারভীন বলেন, ‘কোনো মেয়ে যখন বাল্যবিবাহ রোধে আমাদের সাহায্য চায়। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় তা বন্ধের চেষ্টা করি এবং ওই মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সাহায্য করি। মেয়েরা যখন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে এলাকায় এসে জড়িয়ে ধরে যখন বলে “আপু, আপনার কারণে আজ আমরা এতদূর যেতে পেরেছি”, তখন বেশ ভালো লাগে, আসলে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।’
জাগরণ ক্লাবের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে হীরা পারভীন বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে একটা আইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ল্যাব গড়ে তুলতে চাই। যেটার মাধ্যমে নারীসহ এই এলাকার ছেলেমেয়েরা শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেরাই দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত হতে পারে। এ ছাড়া ইচ্ছা রয়েছে হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠা করা, প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা ও তাদের সেবাদানকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।’ জাগরণ ক্লাবের সভাপতি এএইচএম রায়হান লিটু বলেন, ‘একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে যদি কোনো সহযোগিতা পাওয়া আমাদের প্রয়োজন।’
