বিকাশ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, গ্রেফতার ৯

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৫০

গ্রাহকের বিকাশ একাউন্ট কোন লেনদেন হলে ঠিক তার ১০/১২ মিনিট পর বিকাশ এজেন্ট বা দোকানি পরিচয় দিয়ে গ্রাহকের নম্বরে কল করে প্রতারক চক্র। এরপর গ্রাহকের কাছ জানতে চায় ‘আপনার মোবাইলে পাঠানো টাকা পেয়েছেন কি? পেলে ক্যাশ আউট করেছেন কিনা? এর উত্তর দেবার পরপরই প্রতারকচক্রটি বলে বসে, আসলে দোকান থেকে একই সময়ে কয়েকটি নাম্বারে টাকা পাঠানোতে একটু সমস্যা হয়ে গেছে।

 

তাই কয়েকটি নম্বরের সঙ্গে আপনার নম্বরও লক হয়ে গেছে। আপনাকে বিকাশ অফিস থেকে ফোন করে আনলক করে দেবে। এরপর বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারকচক্রের আরেকজন এবার গ্রাহককে আরেকটি কল দেয়। এভাবে ফোনে বিভিন্ন কথার ছলে ওটিপি এবং বিকাশ পিনকোড নিয়ে নেয়। এরপর গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা তুলে নেয় এবং অ্যাকাউন্ট আনলকের জন্য বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দাবি করে।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম এই চক্রের ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।

আরো পড়ুন : মধ্যবর্তী নির্বাচনের নামে কোনো ইস্যু তৈরির প্রয়োজন নেই: ওবায়দুল কাদের

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং গাজীপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাইফুল ইসলাম (২২), লিটন হোসেন (২৩), জুবায়ের শেখ (২২), গোলাম কিবরিয়া মণ্ডল (১৯), ইমরান মোল্লা (২৩), শাওন হোসাইন মণ্ডল (১৮), মিনজারুল ইসলাম মোল্লা (২৫), আশরাফ মোল্লা (২৬) ও সাগর আহম্মেদ (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের পাঁচটি মোবাইল ফোন, ১০টি সিমকার্ড ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

 

এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রধানত চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতারণা কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে থাকে। প্রথম গ্রুপ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন বিকাশের দোকানে টাকা বিকাশ করার কথা বলে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে লেনদেনকৃত বিকাশ খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে এলাকা উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেয়। এভাবে খুব কৌশলে তারা প্রতারণা করে থাকে। এভাবে হাতিয়ে নেওয়া টাকা বিভিন্ন হাত বদল করে ক্যাশ আউট করে, ফলে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/ইউবি