অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৬

বিসিক কারখানাসহ নানা স্থাপনা রক্ষায় নৌ-ফায়ার স্টেশন জরুরি

পিরোজপুর অফিস ও স্বরূপকাঠি সংবাদদাতা

জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পারে দুটি বৃহত্ বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অগ্নিদুর্ঘটনার হুমকির মুখে থাকলেও এখানে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় পশ্চিম পারে প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ভস্মীভূত হয়। অতি সম্প্রতি এখানের বিসিক শিল্পনগরীতে একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পূর্ব পারের উপজেলা সদর থেকে দমকল বাহিনীর সদস্যরা বিশাল সন্ধ্যা নদী পার হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই একাধিক কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।  ছয়-সাত মাস আগে একই শিল্প নগরীর আরো একটি কারখানা পুড়ে ভস্মীভূত হয়।

ব্যবসা সমৃদ্ধ নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলাকে বিশাল সন্ধ্যা নদী দুই ভাগে ভাগ করেছে। চারটি ইউনিয়ন নিয়ে নদীর পূর্ব পারে উপজেলা সদর এবং সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পারে রয়েছে ছয়টি ইউনিয়ন। উপজেলা সদরে ২০১৩ সালে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপিত হয়। ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে ইন্দুরহাট ও মিয়ারহাট বন্দরের পরিচিতি রয়েছে দেশব্যাপী। ইন্দুরহাট, মিয়ারহাট দুটি বড় বন্দর, কৌরিখাড়া বিসিক শিল্প নগরীসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে নদীর পশ্চিম পাড়ে। এ ছাড়াও  ডুবি, আলকিরহাট, করফা, দৈহারী, গনকপাড়া, চিলতলা, ভরতকাঠি, চাঁদকাঠি, বাটনাতলা, রোংগাকাঠি, রাজবাড়ী, বিন্না, উড়িবুনিয়া, একতা বাজারসহ আরো ১৪-১৫টি ছোট বাজার রয়েছে। সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ, ফজিলা রহমান মহিলা কলেজ, রাজবাড়ী কলেজ, শহীদ স্মৃতি কলেজসহ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে পশ্চিম পাড়ে। রয়েছে রূপালী ব্যাংকের দুটি শাখা, পূবালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকের তিনটি শাখা, ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনা। আগুনের হাত থেকে এ সব স্থাপনা রক্ষার্থে নদীর পশ্চিম পারে স্থাপন করা হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বা নৌ-ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ইন্দুরহাট বন্দর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, সব সময় আগুন আতঙ্কের মধ্যে থাকেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা। নদীর পশ্চিম পাড়ে বন্দরসহ কোনো স্থানে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সন্ধ্যা নদী পার হয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা এ পারে পৌঁছার আগে বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আগুনের হাত থেকে বন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার্থে নদীর পশ্চিম পারে অনতি বিলম্বে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বা নৌ-ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করার জন্য অতি প্রয়োজন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, নদীর পশ্চিম পারে একটি নৌ-ফায়ার স্টেশন স্থাপিত হলে এ বাণিজ্যিক এলাকার অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত হতো। গত ১৪ অক্টোবর রাতে বিসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় উপজেলা সদর থেকে যন্ত্রচালিত নৌকায় করে দমকাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোশারেফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, নদীর পশ্চিম পারে একটি নৌ-ফায়ার স্টেশন হতে পারে। কিন্তু তার আগে ওই অঞ্চলে অবস্থিত রাস্তাঘাটগুলোর দুই পাশে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নিলে দমকলের গাড়ির দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়া দুষ্কর।