নন্দন

ভিন্নমাত্রায় চিত্রিত নারী

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫২

 বিনোদন ডেস্ক

প্রধান চরিত্রে নারী—এমন চলচ্চিত্রের সংখ্যা হাতেগোনা যাবে। কিন্তু অতীত কিংবা বর্তমানে সিনেমার পর্দায় নারীদের শিক্ষার্থী, গৃহবধূ, শিল্পী, সাংবাদিক যে পেশাতেই দেখা যায় তাদের পেশাগত নিজস্ব টানাপোড়েন, চিন্তা-ভাবনা, সংগ্রাম খুব কমই প্রতিফলিত হয়। তাদের মনোজগতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে একজন পুরুষ। সে পুরুষ প্রেমিক, স্বামী, বাবা, ভাই যে কেউ হতে পারে।

তাদের শেষ আশ্রয় কোনো না কোনো পুরুষের কাছে। তবে বলিউডেও নির্মিত হয়েছে এমনকিছু চলচ্চিত্র, যা পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার বিপরীতে নারীকে চিত্রিত করেছে ভিন্নমাত্রায়, স্বকীয় দীপ্তিতে উজ্জ্বল করে। তেমন একটি সিনেমা মহেশ মাঞ্জরেকার পরিচালিত ‘অস্তিত্ব’। এই সিনেমায় নারীর অস্তিত্ব সঙ্কটকে তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সনাতন চিন্তাধারার অনুসারী শ্রীকান্ত পণ্ডিত একজন ব্যস্ত মানুষ।

স্ত্রী অদিতিকে তেমন সময় দিতে পারে না সে। তবে সে ভালোবাসে অদিতিকে নিবেদিত স্ত্রী হিসেবে। একাকীত্বের যন্ত্রণায় অদিতি একপর্যায়ে ক্ষণিকের ভালোলাগায় জড়িয়ে পড়ে অনিকেতের সঙ্গে। এই ঘটনার ২৫ বছর পর একদিন শ্রীকান্ত আবিষ্কার করে স্ত্রীর সেই প্রেমের ইতিহাস। ২৫ বছর আগের সেই ক্ষণিক ভালোলাগার দোষে মিথ্যে হয়ে যায় স্ত্রী ও মা হিসেবে অদিতির সব আত্মত্যাগ। তবে শেষ পর্যন্ত ছেলের প্রেমিকা এসে দাঁড়ায় তার পাশে। নারীর প্রতি সহানুভূতি নিয়ে যে অন্য নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে সেটাই উপসংহারের বক্তব্য। টাবু, শচীন খেড়েকার ও মেহনিশ বেহল এই সিনেমায় অভিনয় করেন।

এছাড়া তটিনেনি রামা রাও পরিচালিত রেখা অভিনীত ‘জীবনধারা’, প্রকাশ ঝা পরিচালিত ও মাধুরী অভিনীত ‘মৃত্যুদণ্ড’, সুনীল দত্ত পরিচালিত ও নার্গিস অভিনীত ‘মাদার ইন্ডিয়া’, প্রীতি জিনতা অভিনীত ‘কেয়া কেহেনা’, মাধুর ভাণ্ডারকার পরিচালিত ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত ‘ফ্যাশন’, মাধুর ভাণ্ডারকার পরিচালিত ও টাবু অভিনীত ‘চাঁদনী বার’, শেখর কাপুর পরিচালিত ও সীমা বিশ্বাস অভিনীত ‘ব্যান্ডিট কুইন’কে নারীবাদী সিনেমা বলা যায়।

এসব সিনেমায় নারীর জীবনযুদ্ধকে তুলে ধরে এবং অনেক সিনেমায় নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে।