‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্রোধ:রক্ষা নয় মুক্তি চাই’ শীর্ষক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার প্রতিবাদে প্রজন্মান্তরে নারীবাদী মৈত্রীর ১০টি দাবিবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তাদের ক্রোধের কথা তুলে ধরা হয়। জনস্বাস্থ্যের ওপর কোভিড-১৯ অতিমারীর বিধ্বংসী প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে ঘরে এবং বাইরে নারীর ওপর সহিংসতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘প্রজন্মান্তরে নারীবাদী মৈত্রী’ লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিষয়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবিসহ ১০টি দাবি তুলে ধরেন—
১. সব ধরনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অবসান দাবি করে সেই সহিংসতা পুরুষতান্ত্রিক প্রভাবিত রাষ্ট্রীয় কাঠামো কর্তৃকসমর্থিত হোক বা যে কোনো পুরুষ বা পুরুষ দলের দ্বারা সংগঠিত হোক।
২. সমাজের যে কোনো পরিসরে (কাঠামোগত, প্রতিষ্ঠানিক সামাজিক বা ব্যক্তিগত) যৌন সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীকে দায়ী করা চলবে না।
৩. পরিবারের পুরুষ সদস্যদের দ্বারা যে কোনো সহিংসতার জন্য পরিবার তাদেরকেই জবাবদিহি করবে। কিন্তু অভিভাবক ছেলে শিশুদের কখনো শিখায় না কীভাবে মেয়েদেরকে সম্মান করতে হয়।
৪. ধর্ষক কোনোভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পার না পায়।
৫. যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময়ে, যে কোনো প্রয়োজনে, চলতে চাই নিরাপদে।
৬. সম্মান নারীর শরীরে এমন ধারণার অবসান চাই।
৭. পাঠ্যক্রমে যৌন শিক্ষার পাঠ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৮. সাইবার মাধ্যমকে নারীর ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
৯. দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণের বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইন সংস্কার করার দাবি।
১০. ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট কর্তৃক প্রস্তাবিত দাবিসমূহ অনতিবিলম্বে মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।
লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে বিনা সম্মতিতে যে কোনো যৌনকর্মকে অপরাধ গণ্য করে ধর্ষণের সংজ্ঞা সংশোধন করা এবং ভুক্তভোগীকে দায়ী করার সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা বন্ধে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সংশোধন করতে হবে। লিঙ্গ, ধর্ম, গোষ্ঠী, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, যৌন পরিচিতি/যৌনতা নির্বিশেষে সব ধরনের ভুক্তভোগীর জন্য সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা পরিচালনাকালে লিঙ্গীয় সংবেদনশীল আচরণ করা। নারী ও মানবাধিকার কর্মী শিরীন হক, অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার, সামিয়া আফরিন, পদ্মনী চাকমা, উপমা জিল্লুর, নাজমা আক্তার, আলেয়া আক্তার, জয়া সিকদার, স্বাতীল বিনতে মাহমুদ, অহনা হাসান, নাজিয়া নূর দাবিগুলো তুলে ধরেন।
সম্প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করা আন্তঃপ্রজন্ম নারীবাদী মানুষদের নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘প্রজন্মান্তরে নারীবাদী মৈত্রী’। সমাজের গভীরে গ্রথিত এই সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সব প্রজন্মকে আহ্বান জানানো। নারীর শরীরে তার এবং তার পরিবারের সম্মান/সম্ভ্রম ধারণ করে প্রচলিত এই ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। নারীর দেহের ওপর পুরুষের সর্বময় অধিকার—এমন স্বত্বের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করে এই মৈত্রী। অপরাধীকে রেহাই ও নিরাপত্তা দেওয়া, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা, নির্যাতনকারীকে বিচারের মুখোমুখি না করে নারীকে তার আচরণ বদলাতে বাধ্য করার জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
