আমাদের কতোই না উপকার করে, যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে, শিক্ষার বাহন হিসেবে গ্রুপ ডিসকাশন, বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে আরো অনেক যা অস্বীকার করা যাবে না। পুরনো বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী সবার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে না যাচ্ছে তার খবরাখবর, কে কী বলছে এসব জানতে পারা; কার মুড খারাপ-ভালো, কার বাচ্চা হলো—ছেলে না মেয়ে, কে কোথায় যাচ্ছে, কে পাশ করল না ফেল করল, কোন স্টাইলে চুল কাটল থেকে শুরু করে সবকিছুই শেয়ার করা যাচ্ছে। কী দারুণ!
এই এতক্ষণ যা যা বললাম এগুলো হলো ফেসবুক বা যোগাযোগ মাধ্যমের কেতাবি কথা। এবার একটু বাস্তবতা নিয়ে কথা বলা যাক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিন নাই রাত নাই অযথা ফেসবুক স্ক্রল করে যাচ্ছি। অনেক রাত জেগে দেখা হচ্ছে কোনো নোটিফিকেশন এলো কি না, কেউ মেসেজ দিল কি না। ফেসবুকের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘুমের সমস্যা বা নিদ্রাহীনতা দেখা দিয়েছে এবং মোবাইলফোনের স্ক্রিনের আলো সৃষ্টি করছে দৃষ্টি বৈকল্য। কতটুকু সময় ব্যয় হলো, স্বাস্থ্যের কতটুকু হানি হলো সেসব আমরা দেখছি না। আমরা অন্ধ হয়ে গেছি ফেসবুকের প্রেমে। ফেসবুকে এত এত বন্ধু থাকার পরেও সেই ঘরের কোণে বসে পোস্ট করছি—আই অ্যাম অ্যালোন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফেসবুকে প্রকাশ হওয়ার পর আত্মহত্যা করেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এমন খবরও অজানা নয়।
ফেসবুকে এত এত খবর উড়ছে—কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা? মিথ্যা খবরগুলো অনেকের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। ফেসবুকে রাতারাতি একজন মানুষ তারকা বনে গেল, তাকে নিয়ে সবাই সুবাক্য ছুড়ে দিচ্ছে। আবার সেই মানুষটাকে নিয়েই কোনো কারণে শুরু হলো কুবাক্য ছোড়া। অকারণে মানুষের এই সস্তা আবেগের খেলা একটার পর একটা চলতেই থাকে। অনেক হলো—এবার যাই...
নূর মোহাম্মাদ আরিফ
