ফরিদপুর ৪ আসনের সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেয়া হয়েছে দাবি করে অতিদ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি করেন তারা। এসময় মানববন্ধনে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু কুচক্রী মহল মিলে ষড়যন্ত্র করে একটি এডিটেড অডিও নিক্সন চৌধুরীর নামে চালিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ কুচক্রীদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হতে শুরু করেছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।
তারা বলেন, সারাদেশে যখন নিক্সন চৌধুরীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, তখন তাকে জনসম্মুখে হেয় করার জন্য এ ধরনের কাজ হচ্ছে৷ ভবিষ্যতেও এসব মানুষদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এসময় বক্তারা তার (নিক্সন চৌধুরী) বিরুদ্ধে হওয়া সকল মামলা প্রত্যাহার না করা হলে সারাদেশে একযোগে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তারা।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হয়েও নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন জানান নিক্সন চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলও চাওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরীর সমর্থনে নৌকা মার্কা জয়ী হয়।
নির্বাচনের দিন রাতেই নিক্সন চৌধুরী দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোটে হারাবর জন্য এবং বালু ব্যবসায়ী বিএনপি প্রার্থীকে জেতাবার জন্য ফরিদপুর প্রশাসন নির্বাচনের দিন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। এরপরই অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয় একটি অডিও ক্লিপ। ১৩ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে নিক্সন চৌধুরী জানান, এই অডিও ক্লিপটি সুপার এডিট করা। তিনি এই কথাগুলো বলেননি। বরং তার বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যক্তিরা এটি তৈরি করেছে।
এদিকে নিক্সনের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ ডাকায় শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত সদরপুর উপজেলা সদরের এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। সাংসদ নিক্সনের সমর্থকরা ১৪৪ ধারা ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে রোববারও সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার হাসপাতাল মোড় ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খাঁন জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ
