ব্রিটিশ রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ী রানিমাতা তার পুত্রবধূ বা নাত বউদের জন্য রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের এক বা একাধিক ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দিয়ে থাকেন। সেই অনুযায়ী রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও তার নাত বউদের জন্য সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের ক্ষেত্র ঠিক করে দিয়েছেন। আর এটি করতে গিয়ে তিনি বেশ দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। এমনভাবে তিনি এটি করেছেন যাতে নাতবউদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো রেষারেষি সৃষ্টি হতে না পারে। প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটনকে (ক্যাথারিন এলিজাবেথ মিডলটন) যে কয়টি সমাজসেবার কাজ দিয়েছিলেন, প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলকেও দিয়েছেন একই সংখ্যক কাজ। সমাজসেবার ক্ষেত্রগুলোও একই ধরনের। সেগুলো হলো: ন্যাশনাল থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয় শিল্পে সহায়তা প্রদান, এসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিস-এর মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে সহায়তা, বেকার নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদানকারী চ্যারিটি সংগঠন স্মার্ট ওয়ার্কস-এর মাধ্যমে মেয়েদের সহায়তা প্রদান এবং মেহিউ নামক সংগঠনের মাধ্যমে পশুপাখির কল্যাণে কাজ করা। এই চারটি কাজ মেগান মার্কেলকে দেওয়া হয় তার বিয়ের নয় মাস পর। এক্ষেত্রে অবশ্য কেট মিডলটন এগিয়ে আছেন। তাকে কাজগুলো দেওয়া হয়েছিল তার বিয়ের আট মাস পর। তবে দুই রাজবধূই একটি কমন সমাজসেবার কাজ ব্রিটিশ রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ী বিয়ের পর পরই পেয়ে যান। সেগুলো হলো রয়েল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কাজ।
মেগান মার্কেলকে ন্যাশনাল থিয়েটারের মাধ্যমে শিল্প সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের জন্য মনোনীত করতে রানিমাতাকে খুব বেশি একটা ভাবতে হয়নি। কারণ মার্কেল বিগত অনেক বছর যাবত্ই টেলিভিশন, চলচ্চিত্রের জগতে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তার অভিনয় জীবনের শুরুই থিয়েটার থেকে। আর সিনিয়র রাজবধূ হিসেবে মিডলটন অবশ্য চ্যারিটি কাজে স্বাভাবিকভাবেই মার্কেলের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে আছেন। বিগত কয়েক বছরে তিনি আরও ১০টি সমাজসেবামূলক কাজে জড়িত হয়েছেন, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিকটোরিয়া ও অ্যালবার্ট মিউজিয়াম এবং ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারিতে সহায়তা প্রদান। মার্কেল ও মিডলটনের এত কর্মযজ্ঞ দেখে অনেকে মজা করে বলেন- এই দুই রাজবধূ চ্যারিটি কাজেই এত সময় ব্যয় করেন, তাহলে তারা রূপচর্চার সময় পান কখন।
