ব্রিজ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুরিয়া গ্রামে ব্রিজের অভাবে যুগ যুগ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ। একটি ব্রিজের জন্য বছরের পর বছর আশায় বুক বেঁধে থাকলেও তাদের দুঃখ-দুর্দশার দিকে আজ পর্যন্ত কেউ ফিরে তাকায়নি। জনদুর্ভোগ এড়াতে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক থেকে হামকুরিয়া গ্রাম পর্যন্ত কাটাখালি খালের উপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। হামকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আইনুল হক, আব্দুল জাব্বার, নজরুল ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া, খাইরুল ইসলাম, জুঁই পারভিন, জান্নাতি খাতুনসহ অনেকে জানান, হামকুরিয়া ওয়াপদা বাঁধ থেকে তাদের নৌকায় গ্রামে আসতে হতো। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু সেতু তৈরির সময় গ্রামটির পাশ দিয়েই হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক নির্মাণ হয়। কমে আসে যোগাযোগ সংকটের দূরত্ব। গ্রামবাসীর উদ্যোগে মহাসড়ক থেকে হামকুরিয়া পর্যন্ত কাটাখালি খালের ওপর নির্মাণ করা হয় একটি বাঁশের সাঁকো। সেই থেকে গ্রামের মানুষ একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ওই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। তারা আরো জানান, তাদের বেশিরভাগ আবাদি জমি মহাসড়ক পার হয়ে একটু দূরের বিস্তীর্ণ দক্ষিণ শামপুর মাঠে। মৌসুমে ইরি-বোরো, পিঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, গম, কালোজিরাসহ সব ধরনের ফসলাদি চাষাবাদ হয় সেই জমিতে। উত্পাদিত ফসল বাঁশের সাঁকো দিয়ে বাড়ি আনা ও বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। বিকল্প পথ হিসেবে নৌকা বা গাড়ি ব্যবহার করতে হয়। নিরুপায় হয়ে তাদের প্রতিবছর গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ টাকা।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নূর মামুন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় হামকুরিয়া কাটাখালি খালের উপর ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
