নোয়াখালী প্রতিনিধি
পারিবারিক কলহের জেরে সত্-মাকে লক্ষ্য করে ঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পাঁচ জন দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। নিহতের নাম আসমা বেগম। পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করা ব্যক্তিও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। ঐ ব্যক্তির নাম কামাল উদ্দিন (৩৫)। এ ঘটনায় তার সত্-মা আসমা বেগম, তারেক, সুমন ও মান্না নামের আরো চার জন অগ্নিদগ্ধ হন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলার সদর উপজেলার কালাদোরাপ ইউনিয়নের রাম হরিতালুক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এক ঘটনায় কামালের শ্যালক শামিমকে আটক করেছে পুলিশ।
অগ্নিদগ্ধদের প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুরে গুরুতর আহত আসমা বেগম, কামাল উদ্দিন ও তারেককে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। রাতে ঢাকা মেডিক্যালে মৃত্যু হয় আসমা বেগমের। অন্য দুই জন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন জানান, আসমা বেগমের শরীরের ৯৯ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়ে গেলেও তারা আশঙ্কামুক্ত।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া এ ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ইসমাইল হোসেন বাবুলের প্রথম স্ত্রী মারা গেলে তিনি আসমা বেগমকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রীর ছেলেমেয়েদের বনিবনা না হওয়ায় কিছুদিন আগে তারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। গতকাল ইসমাইলের বড় ছেলে কামাল উদ্দিন বাড়িতে ফিরে সত্-মা আসমা বেগমের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে কামাল তার সত্-মাকে লক্ষ্য করে ঘরের একটি কক্ষে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করেন। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
