বন্যা দুর্গতদের পাশে ‘ইচ্ছা’

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ২০:৩১

>> আব্দুল্লাহ আল মাছুম

 

বন্যায় ডুবেছে ফসলের ক্ষেত, নষ্ট হয়েছে গবাদি পশুর খড়, পানির নিচে গিয়েছে চুলা, টিনের চালার উপর দিয়ে বয়ে গেছে বাঁধভাঙা স্রোত। নিজের পেটে দুটো দানা-পানি ফেলবে নাকি খাওয়াবে সন্তানকে। অন্যদিকে, গবাদি পশু-পাখিও তো অভাবের ঘরে সন্তানের মতোই। ওদের আহারও জোগার করা চাই। কিন্তু আগে দাঁড়ানোর মতো কোনো আশ্রয় খোঁজা চাই। বছরের মাঝামাঝিতে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির চিত্র এমনই ছিল। একটু ত্রাণের আশায় অসহায় মানুষ চেয়ে থাকত দিগন্তে ভেসে আসা নৌকার দিকে।

এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে ত্রাণ নিয়ে ছুটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইচ্ছা’। সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২৮ এলাকায়। এতে সুবিধাভোগী হয়েছে এক হাজার ৫০৮টি পরিবার। এই কাজে ইচ্ছাকে সহযোগিতা করেছে ‘জেইউ সোলিডারিটি’।

‘জেইউ সোলিডারিটি’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাদের বন্ধুুদের ফেসবুক ভিত্তিক সহায়তা গ্রুপ। আর বর্তমান শিক্ষার্থীদের দাতব্য সংগঠন ইচ্ছার পুরো নাম ‘Inspire Care & Cultivate Human Aid-ICCHA’. সংক্ষেপে এটি ‘ইচ্ছা’ নামেই পরিচিত। ২০১৮ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম ব্যাচের নোমান সিদ্দিক জীবন, নুরুজ্জামান শুভ, সামি আল জাহিদ প্রীতম সহ কয়েকজনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদের নতুন জামা কিনে দেওয়ার মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে তহবিল গঠন করে অসহায়দের সহায়তার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সংগঠনের সদস্যরা।

ইচ্ছার সভাপতি নুরুজ্জামান শুভ বলেন, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও মালিবাড়ি, কুড়িগ্রামের উলিপুর, ভুরুঙ্গামারী, ভোগডাঙ্গা ও চিলমারী, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইলের কালিহাতি ও ভুঞাপুর, বগুড়ার শারিয়াকান্দি, জামালপুর, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও কাজীপুর, ঢাকার দোহার, মাদারীপুর, ফরিদপুর, কামারজানী, সাভারের ধামরাই, সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ, খুলনার কয়রা, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও আদিতমারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা পৌঁছে দেয়।

সংগঠনটি প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। স্বচ্ছতা রাখতে সংগ্রহ করা টাকা ও ব্যয়ের হিসাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। ‘জেইউ সোলিডারিটি’-এর সংগঠকদের একজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ব্যাচের আকবর উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, করোনার দুঃসময়ে তরুণরা স্বেচ্ছায় কাজ করেছে। তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।

অসহায়দের হাতে দুর্যোগের সময় সামান্য হলেও সহায়তা তুলে দিতে পেরে খুশি সংগঠনের সবাই। ইচ্ছার সহসভাপতি এস এন সোহেল রানা বলেন, দুই মাস ধরে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে গিয়ে যে আত্মতুষ্টি পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমাদের যারা আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন কৃতজ্ঞতা তাদেরই প্রাপ্য।

ইচ্ছার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান আপেল বললেন, আমরা সবসময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।