স্কোর কার্ড বলবে, মুস্তাফিজুর রহমান এই ম্যাচের বড় কোনো চরিত্র নন।
৪ ওভার বল করে ১৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু স্কোরকার্ডকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। এই মুস্তাফিজের অতিমানবীয় বোলিংয়েই রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে হেরে গেল তারকাখচিত রংপুর রাইডার্স।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের দরকার ছিল ৯ রান। প্রথম বলে ১টি রান দেওয়ার পর টানা ৩ বল ডট দিয়ে মুস্তাফিজ নিশ্চিত করে ফেললেন জয়। শেষ ২ বলে দরকার ছিল ৮ রান। সেখানেও মুস্তাফিজ ব্যয় করলেন মাত্র ২ রান। ব্যাটে-বলের লড়াইয়ে মুস্তাফিজের জয় হলো। রাজশাহী কিংস এক ধরনের অঘটন ঘটিয়েই ৫ রানে হারালো রংপুর রাইডার্সকে।
এই জয় রাজশাহীকে পয়েন্ট তালিকার ৫ নম্বরে নিয়ে এসেছে। তাদের ও রংপুরের পয়েন্ট এখন সমান ৪ করে। রংপুর অবশ্য খেলে ফেলেছে ৫টি ম্যাচ। হাই প্রোফাইল এই দলটি প্রথম ম্যাচে হারার পর টানা দুই ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এরপর ঢাকা ও রাজশাহীর বিপক্ষে পরাজয়ে এই দলটি আবার খাদের কিনারে চলে গেছে। গত বছরের মতোই শুরুতে ভুগছে মাশরাফির দল।
এই ম্যাচে দুই দলের ‘বোলার অধিনায়ক’ই ব্যাট হাতে ইনিংস শুরু করে চমক দিতে চেয়েছিলেন। মিরাজ ও মাশরাফি; দু’ জনই শূন্য রানে আউট হয়ে মিলটা ধরে রেখেছেন।
টসে জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় রংপুর। আর রাজশাহীর হয়ে ইনিংস শুরু করতে আসেন মুমিনুল হক ও মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজ এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে টপ অর্ডারে ব্যাট করলেন, টানা দুই ম্যাচ ওপেন করলেন। দলে সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ হাফিজ থাকার পরও মিরাজ-মুমিনুলের গতকালকের ওপেনিং অন্তত সুখকর হয়নি। মিরাজ শূন্য রানে ও মুমিনুল ১৪ রানে ফিরে আসেন। মিরাজকে দ্বিতীয় ওভারেই ফেরত পাঠান মাশরাফি। এরপর সৌম্য ১৮ রান করে মাশরাফির দ্বিতীয় শিকার হন।
৩৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাফিজকে নিয়ে একটা ভালো জুটি করেন জাকির হাসান। হাফিজ ২৯ বলে ২৬ রান করে ফেরেন। এরপর আবার ইভান্স ২ রান, টেন ডশেট ১৪ রান, উদানা ৮ রান এবং আরফাত সানি ১ রান করে আউট হয়ে যান। মানে শেষ দিকে কারো কাছ থেকে সমর্থন পাননি জাকির। তিনি নিজে ৩৬ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন।
জবাব দিতে গেইলের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে আসেন মাশরাফি। রংপুর অধিনায়ক কোনো রান না করে রাব্বির শিকার হন। রাব্বির বলে আউট হওয়ার আগে গেইল ১৪ বলে ২৩ রান করেন। এরপরই নিজেদের সেরা জুটিটা পায় রংপুর। ইনফর্ম মিঠুন ৩১ বলে ৩০ রান করেন। আর শেষ পর্যন্ত রংপুরের স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছিলেন রিলি রুশো। যদিও দু’ জনই বলের চেয়ে ধীরগতিতে রান তুলেছেন।
মিঠুন আউট হওয়ার পর দ্রুত ফিরে আসেন বোপারা ও হাওয়েল। নাহিদুল ১২ বলে ১৬ রান করে ফেরেন। আর শেষ ওভারে ভরসাটা হয়েছিলেন রুশো। কিন্তু ফরহাদ রেজা মুস্তাফিজের ৩টি বলে ব্যাট ছোঁয়াতে না পারায় রংপুরের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। রুশো ৪৫ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
