নদী হোক জীবন্ত সত্তা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১১

নদীমাতৃক দেশ হিসেবে একসময় বাংলাদেশ সারা দুনিয়ায় পরিচিতি লাভ করেছিল। তার গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার একটা বৃহত্তর অংশ ছিল নদীপথে এবং নদীর পানি এই দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে শুধু বাঁচিয়ে রাখেনি বরং নদ-নদীতে উত্পাদিত মাছ আমাদের প্রোটিন চাহিদা পূরণের প্রধান উত্স হিসেবেও বিবেচিত হতো। সময়ের বিবর্তনে আমাদের নদীগুলো এখন হারিয়ে যেতে বসেছে, তাদের হাজার হাজার শাখা নদী ও খাল-বিলে এখন পানি নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চর পড়ে গেছে, অনেক স্থানে নদী ও খাল ভরাট করে মানুষ চাষাবাদ করছে। ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টি ও উজানের পানি নিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে, প্রধান প্রধান নদী ও তাদের শাখা নদীসমূহের ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে সেগুলো ভর্তি হয়ে পাড় উপচিয়ে গ্রামগঞ্জ পানিতে তলিয়ে দিচ্ছে। এতে বন্যার ভয়াবহতা বাড়ছে এবং বাড়িঘর, গবাদিপশু ও মানুষের সহায়-সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে। নাব্য হ্রাস পাওয়ায় নদীপথে নৌযান চলাচল অসম্ভব ও বিপজ্জনক হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নদীসমূহের গভীরতা না থাকায় শুকনা মওসুমে সেচের পানির সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। বস্তুত নদীনালা, খালবিল ও হাওরসমূহে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে দেশের অগভীর মূল ও শেকড়সম্পন্ন গাছপালার বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। এছাড়াও নদী দখল দূষণের মহাউত্সব চলছে শহরের চারপাশ ঘিরে। শুধু শহরেই নয়, এই দৃশ্য এখন বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক জেলার নদীতে দেখা যায়। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না শুকিয়ে যাওয়া কিংবা ভরা নদনদী দখল। সবখানে সমানতালে চলছে দখলের মহোত্সব। আমাদের নোঙরের অনুসন্ধানে দেখতে পাচ্ছি, দখল প্রক্রিয়া থামানোর জন্য মাঝে-মধ্যে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয় ঠিকই। কিন্তু তার মেয়াদ থাকে খুবই কম। বাকি সময় ধরে চলতে থাকে দখলের প্রতিযোগিতা।

n লেখক:শিক্ষার্থী, সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ, মাদারীপুর