অদ্রিরাজ আর অদিত্রি বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছে। প্রতি বছরই আসে। এসময়টা ওদের খুব আনন্দের সময়। যত গল্প সব দিদুনের সাথে। আজও দিদুনের কোলে বসে অদিত্রি আকাশ দেখছে। দিদুনের বারান্দায় অনেক ফুলগাছ। সারা বছর অনেক রকম ফুল ফুটে থাকে। এ জায়গাটা যেমন দিদুনের প্রিয় তেমনি অদিত্রি আর অদ্রিরাজেরও। ওরা মাঝে মাঝে এখানে বসে দিদুনের সাথে গল্প করে। আজও এখানে বসে ওরা জলখাবার খাচ্ছে। হঠাত্ অদিত্রির চোখ গেল একটা বাড়ির ছাদে। বেশকিছু পায়রা উড়ছে, একবারেই মালার মতো উড়ছে। এত সুন্দরভাবে উড়তে দেখে অদিত্রি হাততালি দিয়ে বলল,
—দেখো দিদুন , পায়রাগুলো মাম্মার মালার মতো। মাম্মার মুক্তার মালাটার মতো গোল, কী সুন্দর করে উড়ছে।
অদিত্রির পর্যবেক্ষণক্ষমতা দিদুনকে বেশ অবাক করল।
অদ্রিরাজও এসে বসল। ওর হাতে একটা বাইনোকুলার। চোখে লাগিয়ে দেখছে। পায়রা দেখে সেও হাততালি দিয়ে উঠল।
কানাডা থেকে এলে ওরা সারাক্ষণ দিদুনের আশপাশে থাকে, এতদিনের অদর্শনের আদরটুকু যেন একসাথে নিতে চায়। দিদুনও ওদের মধ্যে স্বর্গ দেখে। বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখে।
প্রতিবার ফিরে গেলে দিদুন অপেক্ষা করে আবার কখন আসবে ওরা।
অদ্রিরাজের হাত থেকে বাইনোকুলারটা নিয়ে এদিক ওদিক দেখছে। অদ্রিরাজ যতবার ফিরে চায় অদিত্রি আর দেয় না।
—আরেকটু, আরেকটু দেখি দাদাই, তারপর দিচ্ছি।
এভাবে পাশের বাড়িটা দেখতে অদিত্রি বলল,
—দিদুন, ও বাড়িটা কী সুন্দর! চারটা গাড়ি, গাড়িগুলোও খুব সুন্দর। তোমার বাড়িটা কত ছোট আর গাড়িও একটা, এমন কেন?
বলো না দিদুন, ওরা কি অনেক বড়লোক?
দিদুন ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মিটিমিটি হাসছে।
অদ্রিরাজ এখন দাদার ভূমিকা নিলো। গালে হাত দিয়ে বলল,
—না, বনু, ওরা একটুও বড়লোক না। ওরা খুব গরিব।
—না দাদাই, তুমি জানো না। এত সুন্দর বাড়ি, এত সুন্দর গাড়ি থাকলে কি কেউ গরিব হয়?
অদ্রিরাজ বেশ মুন্সিয়ানার সাথে বলল,
—হয় হয় , তুমি দেখো না ওদের ড্রাইভার, বুয়া, দারোয়ানের জামাকাপড় কত পুরনো। ওরা সারাক্ষণ গোমড়ামুখে থাকে যেন খেতে পায় না। ওদের শরীরও খুব দুর্বল। মনে হয় কতকাল কোনো পুষ্টিকর খাবার খেতে পায় না।
—তাই বুঝি?
—হ্যাঁ,
আর দেখো, দিদুনের ড্রাইভার জালাল আঙ্কেল ভালো জামাকাপড় পরে, হাসিখুশি থাকে। কী সুন্দর স্বাস্থ্য!
—তা-ই তো, আমি তো এটা ভাবিনি।
—হ্যাঁ খেয়াল রেখো। গাড়ি দিয়ে বড়লোক হয় না। বড়লোক হতে বড়ো মন লাগে।
আমাদের দিদুনই আসল বড়লোক।
দিদুন ওদের কাছে টেনে নিয়ে খুব আদর করে দিলো।
