মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়ে যেমন এনেছিলেন স্বাধীনতার সূর্য; বীরাঙ্গনারা তাদের লজ্জা-সম্মান বিসর্জন দিয়ে সারাজীবন এক অবর্ণনীয় কষ্টের বিনিময়ে এনেছেন বিজয়। বীরাঙ্গনাদের সেই অন্ধকার সময়ের কথা, সম্মান ও বঞ্চনার কথা এবং সারাজীবন সেই কষ্ট বয়ে চলার কথা—উঠে এসেছে ‘রাইজিং সাইলেন্স’ চলচ্চিত্রে।
লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশের মেয়ে লিসা গাজী নির্মিত চলচ্চিত্রটি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশে। ছবিটি প্রযোজনা করেছে লন্ডনভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কমলা কালেকটিভ। গত শনিবার ১৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে। আর সেই প্রদর্শনীটি ছিল এ চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনী। আগামী ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মূল মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে।
গতকাল রবিবার মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনাদের জীবন নিয়ে নির্মিত এ ছবি প্রসঙ্গে কথা বলতে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় ছবি নির্মাণ, ভাবনা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন চলচ্চিত্র নির্মাতা লিসা গাজী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ছবিটির গবেষণা উপদেষ্টা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি শাহাদাত হোসেন ও কমলা কালেকটিভের উপদেষ্টা জন বেকার। এ সময় তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও ছবিটি নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
রাজারবাগ পুলিশ লাইনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর রেপ সেন্টার। আর সেখান থেকেই ‘রাইজিং সাইলেন্স’ ছবি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেখানেই এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিসা গাজী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ছয়দিনের মধ্যে বীরাঙ্গনাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিশ্বের আর কোনো দেশে এভাবে যুদ্ধের পর এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পরে এই বীরাঙ্গনাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়। তাদের শেল্টার হোম থেকে বের করে দেওয়া হয়। বীরাঙ্গনারা মুক্তিযুদ্ধে এবং স্বাধীন দেশেও নানা অপমানের মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের এই সারা জীবনের অব্যক্ত কথা তুলে আনতে চেয়েছি এই সিনেমায়। লিসা গাজী বলেন, বীরাঙ্গনাদের নিয়ে একটি নাটক হয়েছিল সে নাটকে আমি অভিনয় করি। সেখান থেকেই একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করি। এ চলচ্চিত্রে দেশের নানা প্রান্তের ৯ জন বীরাঙ্গনাকে নিয়ে কাজ করেছি। যাদের মধ্যে পাঁচ জন এরই মধ্যে মারা গেছেন।
হাসান আরিফ বলেন, বীরাঙ্গনাদের নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। কিন্তু তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসে কথা বলতে চান না। এত মানুষ। লিসা এদের সঙ্গে রাত-দিন কাটিয়েছেন। লিসাকে বীরাঙ্গনারা শুনিয়েছেন তাদের অনুভূতির কথা, কষ্ট ও আনন্দের কথা। যা সবাই এ চলচ্চিত্রে দেখতে পাবেন।
