আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যে কোনো অপরাধী যারা বিদেশে পালিয়ে আছেন তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকরের ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত তত্পর। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের যেসব আপিল বিচারাধীন রয়েছে তা শুনানির জন্য দ্রুত কার্যতালিকায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গতকাল রবিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের ৩৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় গত ১০ অক্টোবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে দশ বছর এবং অর্থ পাচারের একটি মামলায় ২০১৬ সালে হাইকোর্ট সাত বছরের দণ্ড দেয়।
এর আগে অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণ যাতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সে বিষয়ে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদেরকে ভালোভাবে বুঝাতে পারলে তারা এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেবেন এবং সেই চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে মামলা বা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়। এই পরামর্শের কারণে সেসব দেশে শতকরা ৯০ ভাগ বিরোধ/মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। এভাবে তাদের বিচার বিভাগের উপর চাপ কমে আসছে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে যে বিচারক হয়ে ওঠার পেছনে দেশের গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অবদান রয়েছে। আর বিচারকদের কর্মক্ষেত্রই হলো বিচারপ্রার্থী এসব মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ বিচার বিভাগকে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন কিংবা তাদের চোখে ন্যায়বিচারের ধারণাই বা কেমন সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
সকল আইন কর্মকর্তাকে পদত্যাগ করতে বলা হবে
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে সকল আইন কর্মকর্তাকে পদত্যাগ করতে বলা হবে। এরপর যারা যোগ্য ও ত্যাগী তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে। হাইব্রিডদের বাদ দেওয়া হবে। গতকাল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করেছেন। তিনি বলেন, আমরা খামোশ রাজনীতি চাই না। আমাদের শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। এর প্রথম পদক্ষেপ হবে দেশের সকল বারে জয়লাভ করা। এজন্য আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রমুখ। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি।
