নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ নেই ঐক্যফ্রন্টের

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৫

নির্বাচনের পর বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। তারা কী করবেন এবং কী প্রক্রিয়ায় সামনে অগ্রসর হবেন তা নিয়ে শলাপরামর্শ করছেন। জানা গেছে, ভোটে নানা অনিয়মের প্রমাণসহ একযোগে প্রতিটি আসনের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরাজিত প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে ধানের শীষের দুই শতাধিক প্রার্থী বিএনপি অফিসে নির্বাচনে ‘অনিয়মের’ তথ্যও জমা দিয়েছেন। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ সংশোধন করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধানটি তুলে দেওয়ায় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না ঐক্যফ্রন্ট। এখন তাদের অভিযোগ জানানোর একটাই পথ হাইকোর্টের নির্দিষ্ট বেঞ্চে মামলা করা।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচন দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলাফল নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না হলে আদালতে যেতে হবে। জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সারা দেশের আসন ও কেন্দ্র্রভিত্তিক ফলাফলের তালিকা চেয়ে একটি আবেদন করেছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। আজ সোমবার নির্বাচন কমিশনে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এই বিষয়ে আলোচনা হবে। হেলালুদ্দিন বলেন, আসনভিত্তিক ফলাফল আমাদের কাছে থাকলেও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল আমাদের কাছে নেই। তবে কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী ঐক্যফ্রন্টকে জানানো হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোটের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বর্তমানে কোনো সুযোগ নেই। ২০০১ সালেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ সংশোধন করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধানটি তুলে দেওয়া হয়। তবে ট্রাইব্যুনালে না যেতে পারলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি, অনিয়মের যদি কোনো অভিযোগ কোনো প্রার্থী করেন, তাহলে তার হাইকোর্টে পিটিশন দায়েরের সুযোগ রয়েছে। আরপিওর পঞ্চম অধ্যায়ের ৪৯ থেকে ৭২ দফায় এ নিয়ে বিস্তারিত করণীয় বলা আছে। প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারির সভায় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিলেট যাচ্ছেন আজ: নির্বাচনী সহিংসতায় আহত, নিহত ও সহায়-সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এ সপ্তাহ থেকে জেলা সফর শুরু করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা। কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজ সোমবার সিলেটের বালাগঞ্জে যাচ্ছেন নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মোহসীন মন্টুসহ বেশ কয়েকজন নেতা সিলেটে যাচ্ছেন। সেখানে তারা গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সহিংসতায় নিহত এক কর্মীর পরিবারকে সমবেদনা ও সান্ত্বনা দিবেন।

তথ্য সংগ্রহে বিএনপির ৩ কমিটি মাঠে: এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘হামলা-মামলা-লুটপাটের’ তথ্য সংগ্রহে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। প্রত্যেক কমিটি আলাদা বিষয় নিয়ে মাঠে কাজ করছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানাকে কমিটি তিনটির সমন্বয়ক করা হয়েছে। 

জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৮টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচনে ‘অনিয়মের’ তথ্য সাত দিনের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ১০ জানুয়ারি ছিল প্রতিবেদন জমা দেওয়া শেষ দিন। রুহুল কবির রিজভী জানান, গতকাল পর্যন্ত দুই শতাধিক প্রার্থী প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আশা করি, দু-এক দিনের মধ্যে সব আসনের প্রতিবেদন জমা হয়ে যাবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সব প্রতিবেদন জমা হলে তার সাথে আইনগত বিষয় যুক্ত করে মামলার জন্য প্রার্থীদের হাতে দেওয়া হবে। যেসব আসনে প্রার্থীরা জিতেছেন সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরেও মামলা করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত আসনের তথ্য একত্রিত করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ভিডিওচিত্র একসঙ্গে করে একাধিক তথ্যচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর এগুলো সংবাদ সম্মেলনে করে দেশি-বিদেশি মিডিয়াগুলোর কাছে তুলে দেওয়া হবে। ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক ও দাতা সংস্থাগুলোর কাছেও তুলে ধরা হবে।