দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ট্রাফিক পয়েন্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় সৃষ্ট ভয়াবহ যানজটের কারণে এ পয়েন্ট দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রীদের প্রতিনিয়ত অবর্ণনীয় কষ্ট পেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কের গাজীপুর অংশের যানজটের তীব্রতা বর্তমানে মাত্রাতিরিক্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। দিন-রাত প্রায় ২৪ ঘন্টাই ব্যস্ততম এ ট্রাফিক পয়েন্ট এবং আশেপাশের ভোগড়া বাইপাস মোড়, নাওজোড়, তেলিপাড়া, নগপাড়া ও সালনা ফ্লাইওভার পর্যন্ত যানজটের কবলে পড়ায় সেখানে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক স্থবিরতা বিরাজ করতে দেখা যায়। এছাড়াও জেলা শহরের শিববাড়ি-রেলক্রসিং, বোর্ডবাজার, চেরাগআলী, মিলগেট, স্টেশন রোড এলাকায়ও যানজট ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহাসড়ক ও সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোন কোন সময় এক ঘন্টার রাস্তা অতিক্রম করতে ২/৩ ঘন্টা লেগে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক কালে যানবাহনের চাপ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় এ ট্রাফিক পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকায় যানজটের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলতঃ মহাসড়ক ও সড়কগুলোর দুরবস্থা, ক্রমাগত যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়া, ফিটনেসবিহীন অবৈধ যানবাহন চলাচল, অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাতগুলো অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাওয়াসহ নানাবিধ কারণেই যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
সম্প্রতি চান্দনা-চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহগামী মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হলেও বাকি তিনটি মহাসড়ক-সড়কে চলছে রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। ফলে তিনটি মহাসড়ক ও সড়কে যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ড্রেন নির্মাণের জন্য মহাসড়কের উভয়পাশে গর্ত করে রাখা এবং ফ্লাইওভার নির্মাণে পিলার স্থাপনের জন্য মাটি খুঁড়ে রাখায় মহাসড়কগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কাজের ধীরগতির কারণে মহাসড়কগুলো দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। যানজট সৃষ্টির এটিও অন্যতম কারণ বলে ভুক্তভোগীদের ধারণা।
দেশের অন্যতম বৃহত্ শিল্পাঞ্চল বলে খ্যাত গাজীপুরের অধিকাংশ শিল্প কারখানা এসব মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। ফলে এগুলোর পণ্যবাহী লরি, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বর্তমানে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে মহাসড়কের যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং ও রং সাইড দিয়ে গাড়ি চালানো। দেখা গেছে চান্দনা চৌরাস্তাকে ঘিরে যত্রতত্র বিভিন্ন যানবাহনের অবৈধ পার্কিং গড়ে ওঠেছে। এর ওপর রয়েছে ফুটপাত দখল করে ভাসমান হকারদের বিভিন্ন পণ্য বিক্রির ধূম। চৌরাস্তার আশেপাশে কোন ফুটপাতই এখন দখলমুক্ত নেই। ফলে পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে আশে পাশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের সকালে কর্মস্থলে যাওয়া, দুপুরে খাবারের বিরতি ও বিকেলে ছুটির সময় এদের ভিড়ে মহাসড়কগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। তখন যানবাহন চলাচলের গতি স্থবির হয়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় উল্টো পথে যানবাহন এলোপাতারিভাবে চলাচল করায় সৃষ্টি হয় যানজটের। এসময় অপর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ দূরূহ হয়ে পড়ে। তাই গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও মহাসড়কের এ অচলাবস্থা নিরসন করে অবিলম্বে সহজ যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।
এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, বিআরটি প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক উন্নতকরণ ও সংস্কার কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল না করতে পারায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীদের কর্মস্থলে আসা যাওয়ার সময় তাদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত থেকে দখলকারীদের উচ্ছেদ করে মহাসড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, অচিরেই এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে পরামর্শক্রমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে যানজট নিরসন ও দখলমুক্ত করার ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হবে।
