বন্দরে দীর্ঘ ২৭ দিন ধরে ওয়াসার পানির পাম্প বিকল হয়ে তীব্র পানি সংকট বিরাজ করছে। পানির অভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ ও ২৫ নং ওয়ার্ডের আমিরাবাদ, বক্তারকান্দি, দেউলী চৌরাপাড়া, লক্ষণখোলা, মুছাপুরের দাসেরগাঁও, পাতাকাটা এলাকার প্রায় ১৫ হাজার লোকের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। পাম্প বিকল হওয়ায় তিন সপ্তাহ যাবত পানি সরবরাহ করছেন না ওয়াসা কৃর্তপক্ষ। ফলে এলাকায় পানির জন্য হাহাকার বিরাজ করছে।
গতকাল সেখানে গিয়ে পানি সংগ্রহের জন্য এলাকাবাসীকে নানা জায়গায় ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। মাত্র ৪ মাস আগে লক্ষণখোলা পাম্পটি সংস্কার করে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। নারায়ণগঞ্জ ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়, লক্ষণখোলা পাম্পের বোরিং নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন পাম্প স্থাপন করতে হবে। গতকাল রবিবার ২৫ নং ওয়ার্ডের চৌরাপাড়া ও লক্ষণখোলা এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাহকের বাড়ির কলে মোটেও পানি আসছে না। রাস্তায় স্থাপন করা কল থেকে এবং ওয়াসার গাড়ি থেকে লাইন দিয়ে পানি সংগ্রহ করছেন বাসিন্দারা। আশপাশের কলকারখানা থেকেও পানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। দাসেরগাঁও এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সফিউদ্দিন আহমেদ জানান, একমাস ধরে পাম্পটি বিকল হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও ঠিক করার কোন উদ্যোগ নেয়নি ওয়াসা। পানির এত সংকট যে ওজুর পানি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় থেকে বহু কষ্টে শুধু খাবার পানি সংগ্রহ করছেন মানুষ। বন্দর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির সোহেল জানান, আন্দোলনের মুখে মাত্র ৪ মাস আগে পাম্পটি মেরামত করা হয়। অজ্ঞাত কারণে আবারও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র পানি সংকট। বিকল্প ব্যবস্থায় পানি সরবরাহ করছে না ওয়াসা। সংস্কার কিংবা নতুন পাম্প স্থাপনের কোন উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।
২৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল লতিফ জানান, এলাকাবাসী আগে টিউবঅয়েলের মাধ্যমে খাবার পানির চাহিদা পূরণ করতো। সমপ্রতি এই এলাকায় পানি সরবরাহের দায়িত্ব নেয় ঢাকা ওয়াসা। প্রায় ৫ বছর আগে দাসেরগাঁও এলাকায় স্থাপন করা হয় লক্ষণখোলা পাম্প হাউস। অজ্ঞাত কারণে পাম্পটি বছরের বেশিরভাগ সময় বিকল থাকে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও পানির কষ্ট থেকে মুক্তি পাননি এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে নাসিক ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন জানান, পাম্প বিকল হওয়ায় এলাকায় পানি সংকট চলছে। বর্তমানে ১০টি পানির ট্যাংক বসিয়ে পানি সরবরাহ করছে ওয়াসা। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পুরো এলাকায় পানি দিতে ৩০টি ট্যাংক লাগবে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে ওয়াসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসার নারায়ণগঞ্জ মডস জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউল আলম জানান, লক্ষণখোলা পাম্প হাউসের বোরিং নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কার কাজ চলছে। ঠিক হতে আরও ১৫ দিন সময় লাগবে। পাশাপাশি একটি নতুন পাম্প স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে। নতুন পাম্প স্থাপনে ২ মাস লাগবে। বর্তমানে ৬টি গাড়িতে করে ওই এলাকায় প্রতিদিন পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি ওয়ার্ডে এর বেশি পানি সরবরাহ করা যায় না। এ ছাড়া বিকল পাম্পের নিকটবর্তী চৌরাপাড়া সোমবারিয়া বাজারের পাম্পের উত্পাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
