কাপাসিয়ায় স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও নির্মিত হয়নি কেন্দ্রীয় স্মৃতি সৌধ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০৮

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের জন্মভুমি গাজীপুরের কাপাসিয়া। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাথে জড়িয়ে আছে কাপাসিয়ার নাম। মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি বিজরিত এ উপজেলায় স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও এখনো কোন কেন্দ্রীয় স্মৃতি সৌধ নির্মিত হয়নি। স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবসে উপজেলা প্রশাসনসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের খোলা স্থানে ডিজিটাল ব্যানার কিংবা অস্থায়ী কোন কিছু দিয়ে তৈরি কল্পিত শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। কাপাসিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ দীর্ঘদিন যাবত্ নানা মহলে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি করে আসলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলায় একজন বীর বিক্রম ও দুই জন বীর প্রতীকসহ সরকারি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন ৭৬৪ জন। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন ২০ জন। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ খালেদা জিয়ার সরকারের পাটমন্ত্রী ছিলেন। তাজউদ্দিন আহমদের ছোট ভাই আফসারউদ্দিন আহমদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাজউদ্দিন আহমদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অনেকে এমপি হয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতার বাড়ি কাপাসিয়ায়। কিন্তু কাপাসিয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণে তাদের কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। সরকারের উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তার বাড়িও এখানে। তারাও তেমন কোন ভূমিকা রাখেননি। সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি বিজরিত, অনেক যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্তে রঞ্জিত ৩৫৮ বর্গ কিলোমিটারের এ জনপদের উপজেলা সদরে কোন স্মৃতি সৌধ নেই। কাপাসিয়া মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে এক পিলারের একটি স্মৃতি সৌধ ছিল। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় এক যুগ পুর্বে সেটি ভেঙে সেখানে দৃষ্টিনন্দন একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও অর্থাভাবে সে উদ্যোগ এখনো বাস্তব রূপ লাভ করেনি। ফলে উপজেলায় মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ যে কোনো জাতীয় দিবস উদযাপন করতে গিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষা শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে সকলকেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কাপাসিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে খাালি জয়গায় অস্থায়ী ডিজিটাল ব্যানারে একটি কল্পিত স্মৃতিসৌধের ছবি টানিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। কাপাসিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার মাহমুদুল আলম খান বেনু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার নেতৃত্বে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে শিবু, সাজ্জাদ, গিয়াস, আব্দুল হাই ও নুরু শহীদ হয়েছেন। উপজেলায় মোট ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায়, আমি আশা করি অচিরেই এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন স্মৃতি সৌধ নির্মিত হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তাজউদ্দিন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি কাপাসিয়ার মানুষের মমতা ও ভালবাসার কথা বিবেচনায় রেখে বাস স্যান্ড এলাকায় তাজউদ্দিন চত্বরে একটি দৃষ্টি নন্দন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যেখানে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দিন আহমদের ম্যুরালসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। আশা করি এটি নির্মিত হলে কাপাসিয়ার মানুষের স্মৃতি সৌধ নির্মাণের চাহিদা পুরণ হবে।