বিজিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৬

সাভার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভের সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিজিবির এক মেজর মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সকালে উলাইল বাসস্ট্যান্ডের আল-মুসলিম পোশাক কারখানার ভিতরে এ ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাজিবুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দায়েরকৃত অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেছেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় গতকাল সাভারের আল-মুসলিম কারখানায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য অবস্থান করছিল বিজিবি, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল। ওই দলে বিজিবির নেতৃত্বে ছিলেন ৫ বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের মেজর এএফএম রহমত উল্লাহ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাজিবুল ইসলাম। দায়িত্ব পালনের একপর্যায়ে মেজর এএফএম রহমত উল্লাহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিবুল ইসলামকে আল-মুসলিম গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মেজর (অবঃ) খন্দকার হেলাল হোসেনের অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আলাপচারিতার একপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাজিবুল ইসলাম বিজিবি মেজর রহমাত উল্লাহকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হন। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর আশুলিয়া থেকে সংবাদ আসে ওই অঞ্চলের কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। এ সময় মেজর এএফএম রহমত উল্লাহ তার দুজন সিপাহিকে ডেকে আশুলিয়ার একটি স্থানে যেতে বলেন এবং তাদের নির্দেশ দেন যে, ‘সেখানে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তাহলে সরাসরি ফায়ার ওপেন করবে এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবে।’ এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিবুল ইসলাম আইনের বিধি উল্লেখ করে বিজিবি মেজর রহমত উল্লাহকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘গুলি করার অনুমতি আপনি দিতে পারেন না। গুলি করার পরিস্থিতির উদ্ভব হলে উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি বিবেচনা করে গুলি করার অনুমতি দিতে পারেন।’ এ কথা শুনেই মেজর রহমত উল্লাহ উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিবুল ইসলামকে মারধর করেন। একপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিবুল ইসলাম মাটিতে পড়ে যান। মারধরে তার ডান চোখের উপর কেটে যায় এবং মুখমণ্ডল ফুলে যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। বিজিবি কর্মকর্তা কর্তৃক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রহারের সংবাদ পেয়ে অপর এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আমজাদুল হক বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

আল-মুসলিম গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মেজর (অবঃ) খন্দকার হেলাল হোসেন বলেন, তার কক্ষে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা সত্যিই দুঃখজনক।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।