গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
স্পিডবোট ডুবির ৪০ ঘণ্টা পর পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলার আগুনমুখা নদী থেকে নিখোঁজ পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে এ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে; তারা হলেন রাঙ্গাবালী থানার কনস্টেবল মহিব্বুল হক (৪৫)। তিনি বাকেরগঞ্জের জিরাইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। কৃষি ব্যাংক রাঙ্গাবালীর বাহেরচর শাখার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫)। তিনি পটুয়াখালীর আউলিয়াপুরের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে। বেসরকারি এনজিও সংস্থা আশার রাঙ্গাবালীর খালগোড়া শাখার ঋণ অফিসার কবির হোসেন (৩০)। তিনি বাউফলের কাশিপুরের লক্ষ্মীপাশা গ্রামের শাহজাহান সিকদারের ছেলে। পটুয়াখালীর ময়দান মাদ্রাসা এলাকার রহিম হাওলাদারের ছেলে হাসান (৩৫) এবং বাউফলের জয়গোড়া এলাকার মৃত আলম হাওলাদারের ছেলে ইমরান (৩৪)। হাসান ও ইমরান রাঙ্গাবালীতে সড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিল। এদিকে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার অপরাধে স্পিডবোট পরিচালনাকারী ও চালকের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্টে একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান পটুয়াখালী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার কোড়ালিয়া থেকে গলাচিপার পানপট্টির উদ্দেশ্যে যাওয়া আহম্মেদ এন্টারপ্রাইজের এই স্পিডবোট আগুনমুখা নদীর মাঝামাঝি গিয়ে ঢেউয়ের তোড়ে তলা ফেটে ১৭ জন যাত্রী ও এক চালকসহ ডুবে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার দেড়ঘণ্টা পর এক চালকসহ ১৩ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও পাঁচ জন নিখোঁজ ছিল।
প্রশাসন জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য কয়েক দফায় অভিযান চালায় পুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয়রা। অবশেষে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আগুনমুখা নদীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিখোঁজদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটে চার জনের এবং পানপট্টি একজনের মৃতদেহ এনে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ঐদিন দুপুরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন।
