গুলশানে ৭১ নম্বর রোডে বীর বিক্রম আমিন আহমেদ চৌধুরীর নামফলক ভেঙ্গে দেয়ার পর তা আবারো নির্মাণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আজ রবিবার এই নাম ফলকের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা। এ সময় তারা এই নাম ফলক ভাঙ্গার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানায়।
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুসারে জানা যায়, ২০০৮ সালে ৭১ নম্বর এই রোডে প্রথম দুটি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ সময় বীর বিক্রম আমিন আহমেদ চৌধুরীর নামে দুটি নামফলক হয়। ১৯৭১ সালের ৪ আগস্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে এই রোডে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ের দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক মাহবুবুজ্জামানর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান পাকিস্তানের হাইকমিশনার আলমগীর বাবর এবং এই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের প্রতিবাদ জানান ও তা অপসরণের কথা বলেন। ১৯৭১ সাল শহীদ প্রকৌশলীর ছেলে মাহবুবুজ্জামান সে সময় তার উত্তরে জানান, এই ভিত্তি প্রস্তরের কোন সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ৭১ নম্বর রাস্তা হওয়ায় একজন মহান মুক্তিযোদ্ধার নামে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এটি সার্বভৌমত্ব থেকেই করা হয়েছে। আর পাকিস্তানের উচিত ১৯৭১ সালে যা ঘটেছে তা মেনে নেয়া এবং সেই জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। এই বক্তব্যের পর আর কোন কথা না বলেই সেই ঘর থেকে বের হয়ে যান পাকিস্তানের তৎকালীন হাইকমিশনার আলমগীর বাবর।
বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এই ৭১ নম্বর রোডে স্থাপিত ভিত্তি প্রস্তরগুলোর চিহ্ন মুছে ফেলার পর। সেখানে একটি ভিত্তি প্রস্তরের কিছু অংশ দেখা গেলেও অপরটির সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেনা বলে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ পাওয়ার পর সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখে আবারো ভিত্তি প্রস্তরটি পুনর্নির্মাণ করে দেয়া হয়। অক্টোবরের ২৫ তারিখ সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নব্যপ্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের ও ৩ নভেম্বর জেলে হত্যা দিবসকে সামনে রেখে জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির প্রতি ধিক্কার জানাতে তারা আজ এই নাম ফলকের সামনে সমাবেত হয়েছে।
নব্যপ্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের মহাসচিব রোমান আহমেদ সজিব বলেন, একটি কুচক্রীমহল এই সড়কের নামফলক কিছুদিন আগে ভেঙ্গে ফেলে। যার কারণে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তারা এই মহান মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মান জানাতে তার নামফলকে ফুল দিয়েছি। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি।
ইত্তেফাক/আরএ
