১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ২০০৫ সালে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০ অক্টোবর ১৫ বছরে পদার্পণ বিদ্যাপীঠটির। ঐতিহ্য, গৌরব ও সংগ্রামের এই পথচলা নিয়ে ভাবছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? তাদের অভিব্যক্তি জানার চেষ্টা করেছেন— তোফায়েল পাঠান শান্ত
মহামারির পর প্রিয় আঙিনা আবার ভরে উঠবে
সাদিয়া ইসলাম সুপ্তি, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ
প্রাণের জগন্নাথ ঐতিহ্য, গৌরব ও সংগ্রামের ১৫ বছরে পদছাপ রাখল। এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি অংশের ভাঁজে ভাঁজে, পুরো আঙিনা জুড়েই পাঁচমিশালি নানা রঙের অনুভূতি মিশে আছে। তবে এবছর করোনা মহামারির কারণে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রতিবারের মতো প্রিয় ক্যাম্পাস এবার আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন থেকে বিরত থাকবে। খুব মিস করব। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন বা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেড়িয়ে গেছেন, এ দিনটিতে সবার অংশগ্রহণে প্রিয় ক্যাম্পাস যেন একটি মিলন-নাগরদোলায় পরিণত হয়। এ মহামারির পর এই আঙিনা আবার ভরে উঠবে, সুর-তাল-আনন্দের জোয়ার উঠবে; এই আশাই রাখছি। শুভকামনা বুনছি—প্রিয় জগন্নাথ তার গৌরবের পথে উজ্জীবিত হতে থাকুক যুগ থেকে যুগান্তরে।
আমি গর্বিত, আমি জবিয়ান
রায়হান উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হাঁটি হাঁটি পা করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। ‘জগা বাবুর পাঠশালা’ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থীর বিদ্যাপীঠ হিসেবে শিক্ষাদান করে আসছে। দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস, সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশ উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি সেক্টরেই নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন। সুনামের সঙ্গে দেশের বাইরে উচ্চতর শিক্ষা, গবেষণা করে যাচ্ছেন। যে কোনো ছাত্রছাত্রীর ক্ষেত্রেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বপ্নের ঠিকানা-গর্বের পরিচয়। আমি গর্বিত, আমি জবিয়ান।
স্বগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে জবি
রাফসান জানী খান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রাণের নাম। আমাদের চাহিদার জায়গায় অনেক আক্ষেপ থাকলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দানে গর্ববোধ করি। সরকারি, বেসরকারি যে কোনো চাকরির প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে যে কোনো প্রতিযোগিতায় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যেমন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আবাসিক হল (ছাত্রী) উদ্বোধন হওয়া। স্বাধীনতা যুদ্ধসহ যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে, সেসবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তথা তত্কালীন কলেজের অবদান অনস্বীকার্য। জবি একদিন বিশ্বের বুকে স্বগৌরব ও ঐতিহ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রোল মডেল হবে জবি
আফিয়া তানজীম আভা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়—যা বাংলাদেশের অন্যতম জ্ঞান চর্চার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৫ বছরের তরুণ হলেও কালের আবর্তনে ১৫০ বছরের ঐতিহ্য, গৌরব ও সংগ্রামের ইতিহাস বহন করে চলছে পুরান ঢাকার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠটি। বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সফলতার কারণে দেশব্যাপী শিক্ষার্থী এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মডেল হিসেবে আছে এই আমাদের জবি। আমার কাছে সেরা প্রাপ্তি জবির এই ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে চায়ের আড্ডা, টিএসসি, কাঁঠালতলা কিংবা শান্ত চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটিগুলো আমৃত্যু মধুর স্মৃতি হয়ে থাকবে। সব বাধা পেরিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের জবি। জয়তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
জীবনের সবচেয়ে বড় অভ্যাসের নাম জবি
শোভন আশরাফ, অর্থনীতি বিভাগ
এই বছরই আমার পথপ্রদর্শক জবি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পা দিতে যাচ্ছে ১৬তম বছরে। অজস্র ইতিহাসের সাক্ষী যেমন জবি ঠিক, তেমনি নতুন ইতিহাস রচনায় জবি থাকবে সম্মুখ সারিতে তা নিশ্চিত করেই বলতে পারি। আমার জীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নামক অধ্যায়ের শুরু ২০১৫ সাল থেকে। সময়ের হিসেবে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নেওয়ার খুব কাছাকাছি এসে আমার উপলব্ধি হলো, প্রথমদিকে অজস্র প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়েই মাথা ঘামিয়েছি, হয়তো বিরক্তও হয়েছি কিন্তু এখন সেগুলো ফিকে মনে হয়। তাই শুধুমাত্র প্রাপ্তিগুলোর কথা চিন্তা করি। তারচেয়ে বড় কথা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভ্যাসের নাম!
ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক জবি
আ.স.ম. বোরহান উদ্দিন, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ
ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিক্ষা সংস্কৃতির ধারক-বাহক আমাদের এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৫তম বছরে পদার্পণ করেছে। গবেষণা, বিসিএস, ব্যাংকজবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে অবদান রাখছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলতে কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমিতে নতুন ক্যাম্পাসের কাজ চলমান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।
