‘লিবারাল ট্রাভেলার, আপ্নেও পাহাড়ের কাছে চান্সে ঘাপটি মেরে থাকা, এক সেটেলার।’ —এ কে এম জাকারিয়া।
এবং ডিয়ার ট্যুরিস্ট, তোমার জন্য পর্যটন কর্পোরেশন... লোকাল পুলিশ; আর মিডিয়া... যাবতীয়সব মানবাধিকার, বাই-বেনিফিট, কৃষ্টি-কালচার... ওই উঁচু নিচু পাহাড়চূড়ার, চূড়ায় চূড়ায় পবিত্র আন-হোলি স্পিরিট, অ্যাডভেঞ্চার... প্রেম ও পরকীয়া, আর যত বাকি আছে বলা, উল্লেখ্য এবং অনুল্লেখ্য... তোমাদের ইথিকস, অ্যাসথেটিকস এবং মোরালিটির দায়ভার... ওই ওই মানবিকতায় নিহিত অমানবিক বরাভয়... মরণমোহন উচাটন, কোটি কোটি মৃত্যুর পরও জনসংখ্যাবিস্ফোরণে ফেটে চৌচির বসুন্ধরা... এর নাই পূরণযোগ্যতা ওই ক্ষতিপূরণের ভয় দিয়ে গড়ে তুলছে কলোনি... বাদুড়ের বিলুপ্তি হলে পড়, মাথার ওপর খাম্বায় টানা দেওয়া ইলেকট্রিক তারগুলো, হাই-ভোল্টেজ নিয়েই মাটির নিচে যাচ্ছে... প্রফিট অর বেনিফিটসহ, তোমাদিগর মানবতার ভারের নিচে চাপা পড়ে মরে যাক অনেক অনেক অনেক মানুষ, সব মৃত্যুরহস্যের জট, পাকিয়ে তুলুক প্রতিবেশে গাছের কাঁঠাল, আমগুলো টুপটাপ ফরমালিনমুক্ত রাখা গেছে যে গুটিকয়—দ্রুত তা দুধের সঙ্গে মিশে নিজ থেকে উঠে যাক ট্যুরিস্টের পাতে পাতে।
এবং ডিয়ার ট্যুরিস্ট, কোনো ভয় নেই... আমরা জানি—আপনার পা যতখানি যায়, ততখানি আপনার পৃথিবী; আর চোখ খুব বেশি হলে সঠিকভাবে নির্ভুল একটি স্বপ্ন দেখতে পারে এবং যা স্বপ্ন বলেই, তা নয় সঠিক, ওটা ভুল... দৃষ্টিভঙ্গির খোঁজ করে দেখা দৃষ্টিশক্তির সীমানায় আকাশ... শূন্য... কিছু নাই... না খোদা, না তার সত্যাসত্য কোনো কিছু, বিভ্রম ওটা... ওই আসমান।
এবং ডিয়ার ট্যুরিস্ট, কোনো ভয় নেই... এই বস্তুবিশ্বে লালগালিচা হয়ে আছে সি-বিচ, আপনার পদধূলিতে তা হয়ে ওঠে সাগর ও সৈকত—আর এই বালুকাবেলায় ঝিনুক কুড়িয়ে আপনাকে এনে দেবে, অং সান সুচির সাক্ষাত্ না পাওয়া রোহিঙ্গা বালকেরা... বালিকারা। আর ওই যে ইবনে বতুতা এবং কলম্বাসের খোঁজে মালয়সাগরগামী ট্রলারে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া যুবকেরা নোঙ্গর ফেলতে পারেনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বাধায়—ওই যে ভাসমান তারা সাগরে সাগরে... তাকিয়ে রয়েছে পৃথিবীর তরে, চেয়ে তীর... আর মানুষের পৃথিবী উহাদের দিকে ক্যামেরার লেন্সে মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে... দেখ, কী অবাক তাকিয়ে রয় এবং ডিয়ার ট্যুরিস্ট, কোনো ভয় নেই... এলিয়েনে বিশ্বাসীদের সঙ্গে মিল এবং বিরোধ কোনোটাই নেই খোদায় বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীর... ওনাদের আইনানুগ ফাঁসি কিংবা কতলের কোনো স্টুপিড আন্দোলন নাই, এই দুনিয়ায়; মানুষ্যসদৃশ এই সাগরে ভাসমান অজানা অচেনা বস্তুকে দেখে নিয়ে একটি ফ্লাইং সসার এলিয়েন ও তাদের ভালো-মন্দ-সম্ভাবনা এবং অসম্ভবগুলো নিয়ে চলে যাচ্ছে ভয়ে ও বিস্ময়ে... মানবসভ্যতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ভাষা হারিয়ে ফেলে... ওসব জুজুভয় নয়, বরং মারমেইড হয়ে যাক দেখার বিষয় ডিয়ার ট্যুরিস্ট, তোমার একান্ত প্রতিভায়... তুমি পুরুষ নৃ-বিজ্ঞানীর বিদ্বত্সাহীভঙ্গিতে অথবা কৃষ্টি-কালচার দেখার মতো করে চেয়ে থাকো শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোরত রিফিউজি ক্যাম্পের ওই মহিলার স্তনের দিকে... উপভোগ করো সব... যা কিছু এখানকার... তোমার জন্য এই রাস্তাঘাট, স্টেশন, বিমানবন্দর, নৌ-টার্মিনাল... পল্টন, দরিয়া এবং মাটির পৃথিবীর তটরেখায় তোমাকে স্বাগত জানাতে সৈকত বিস্তারিত বালুকাবেলায় ডাকাত-জলদস্যুর জাহাজ লুণ্ঠিতসম্পদসহ আর গোলাবারুদভর্তি যুদ্ধ জাহাজের ডুবে যাওয়ার খবর নিয়ে ফেরত এসেছে পরাশক্তির স্পাই-সাবমেরিন, সব পাওয়া গেছে... কেবল মানুষগুলা খেয়ে গেছে সাগরের লবণ, হাঙর... আর ওই ডাকাত-দস্যু, নাবিক, সৈনিক কিংবা ওসব জলযানে এযাবত্ যতযারা- মৃত... সাগরের ক্ষার, হাঙর, কুমির সবই তাহাদের মৃতশরীর থেকে খুবলে হামলে দেহ ছিঁড়ে খাবার সময়... একটি ডলফিন, ট্যুরিস্ট ক্রুজের পিছে ঘুরে মরা একটি সি-গাল মানবতা দেখিয়ে তাকানোর চেষ্টা করেছিল... তাকানোটা দৃষ্টিশক্তি এবং দৃষ্টিভঙ্গির, এছাড়া সবরকম ভাবে তাকানোর তুরীয় অনুমোদন রয়েছে সবদিক... থ্রি সিক্সটি ডিগ্রিতে ঘুরে যাচ্ছে... ট্যুরিস্ট বাস, ট্যুরিস্ট লজ, ট্যুরিস্ট স্পট, প্যাকেজ অফার—অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইট-টি ডেজ, যুদ্ধ জাহাজ, ট্যাংক, সাঁজোয়া ট্যুরিস্ট যানে চড়ে ছদ্মবেশে রিফিউজি নিধনে বেরিয়েছে ন্যাটো, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, দাতাদেশ সাথে গ্রহিতাদেশ ও তার দূতাবাস... ভবঘুরে মার্কিন ট্যুরিস্ট এশিয়ান মুসলিম একদেশে, প্রলোভনে লোভে পড়ে, হায় আশার ছলনে ভুলি... মাদক পাচারকালে ধরা পড়ে—আফ্রিকার মতো কালো হয়ে যায় ওই নীল আকাশ... আর লালে লাল দুনিয়া, কল্যাণ-রাষ্ট্রে নিখোঁজ কল্পনা চাকমা... ঢাল বেয়ে নিচে মানুষের দুনিয়াতে বয়ে যাওয়া নদীতে বাঁধ, পানি জমে রাধার বুকে উঁচু হয়ে ওঠা অভিমানে স্ফীত স্তনের মতো পাহাড়ের পাতালদেশ, বরফ জমাট আর তাই দ্বিধাদ্বন্দ্বের রাস্তা মথুরার পথে যায় না, এইভাবে, ক্লাইমেট রাস্তাটা চেঞ্জ করে বদলে দেয় গন্তব্য... রোমে, ভ্যাটিকান দুর্গে পথ বেঁকে চলে গেছে... তোমাকে নিয়ে, আমার থেকে দূরে, মেঘেরও সে অনেক ওপর চক্ষুসীমার বাইরে... যেইখানে আকাশ, সেইখানে শূন্য, বিভ্রম... কিংবা ইমেজ ও তার পারসেপশানগত বিরোধ—ঘরির ডায়াল থেকে একটি খরগোশ ও একটি কচ্ছপ আর্থার কোনানের সম্মানে একবার মিনিটের কাঁটা, আরেকবার ঘণ্টার কাঁটা পর্যায়ক্রমে একবার স্লো করে, তো আরেকবার ফার্স্ট... সেকেন্ডের পায়ে পায়ে দৌড়ানো ওই সারি সারি মানুষের সময়ের সেই পার্থক্য মেটাতে... প্রাণপণে দৌড়ে হারিয়েছে, হারিয়ে এসেছে, হারাচ্ছে, হারাতে থাকবে... আকাশ থেকে উড়ে গেছে যেমন তার প্রাণপাখি, বিমানবিকিরণে... আসমানি নয় আকাশের রঙ বেগুনি... এইভাবে, ঢের মানুষ হতেছে তবে বিহঙ্গপ্রতিম প্রাণহীন, দূষণের রঙিন, এবং আরও বহু ঢের ঢের হবে অপচয়, মানুষের।
এবং ডিয়ার ট্যুরিস্ট, ডোন্ট ওরিড... এইখানে—নো কনফ্লিক্ট, নো রেজুলেশান।
