সাভারে পোশাকশ্রমিকের ঘরে ঢুকে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:৩৭

ঢাকার সাভারে নারী পোশাকশ্রমিকের ঘরে ঢুকে ধর্ষণের অভিযোগে অজ্ঞাত এক ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘটনায় এক মাতব্বরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সাভারে রাতের আঁধারে নারী পোশাকশ্রমিকের ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় গতকাল সোমবার সাভার মডেল থানায় মামলা করেন ঐ পোশাকশ্রমিকের বাবা। গত শনিবার গভীর রাতে সাভার নামাবাজার কাঠপট্টি এলাকার একটি বাড়িতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ভুক্তভোগী ঐ পোশাকশ্রমিক সাভার নামাবাজার এলাকার ঐ বাসায় ভাড়া থেকে আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। গত শনিবার রাতে কারখানা থেকে বাসায় ফিরে খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েন ভুক্তভোগী। রাত ৩টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি হাতে আংটি, মুখে দাড়ি, সাদা গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে ঐ নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীর চিত্কারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ঐ ব্যক্তি পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে সাভার মডেল থানায় মামলার পর পুলিশ ঐ পোশাক শ্রমিককে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠায়।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আল-আমীন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাত ধর্ষককে শনাক্তসহ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করায় উপজেলার বিশারাবাড়ীর গ্রাম্যসর্দার হেবজু মিয়ার বিরুদ্ধে কসবা থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবা এই অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলার বিশারবাড়ী মসজিদের ইমাম ওবায়দুল হকের (৫০) নিকট একই গ্রামের এক মাদ্রাসাছাত্রী কোরআন শিখতে গেলে সে বিভিন্ন কৌশল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঐ ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ঐ ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে ইমাম তাকে ফুঁসলিয়ে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ালে মৃত বাচ্চা প্রসব হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ইমামকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে হেবজু মিয়া সর্দারসহ কয়েক জন সর্দার। এমনকি এ ঘটনার পর হেবজু সর্দারের নেতৃত্বে সালিশের মাধ্যমে সমাজচ্যুত বা একঘরে করা হয় ধর্ষণের শিকার ঐ ছাত্রীর পরিবারকে। ধর্ষিতার বাবা এ ঘটনায় কসবা থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নামে কালক্ষেপণ করায় ধর্ষণের শিকার ঐ নারীর বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা করলে আদালত পিবিআইকে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশনা দেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এদিকে ধর্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেফতার ও ধর্ষণের শিকার ঐ ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার নির্দেশদাতাকে গ্রেফতারের দাবিতে কসবা সচেতন নাগরীক সমাজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা পরিষদ মানববন্ধন করে এবং পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন।

কসবা থানার ওসি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, বিশারবাড়ীতে ধর্ষণের শিকার ঐ ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার বিষয়ে হেবজু সর্দারের নামে অভিযোগ করেছেন ধর্ষণের শিকার ঐ নারীর বাবা। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।