আগস্ট থেকে নভেম্বর

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০২

 

হেসে ওঠে বারবার                    সাপগুলো সব

হেসে ওঠে জানোয়ার                  করে কলরব

 

ধারণাতীত সকল ধারা—  সাপ বলে যায় তার সমূহ কথন

ধারণাতীত জীবন ধারা—  সাপ করে চলে তার আশ্চর্য মন্থন

ধারণাতীত সকল ধারা—  বিচ্ছুরিত সব চিন্তায় জানোয়ার বলে যায় কিম্ভূত দর্শন

ধারণাতীত সকল ধারা—

সকল কিছুতে বেড়ে ওঠা এতদিনে

পুড়তে থাকে মন সঙ্গোপনে

 

সাপ অতি প্রাণবন্ত,                    হাসে রিনিঝিনি

সাপ অতি মাদক-প্রবণ              করে কঠিন ধূর্তামি

হয়ে যায় বন্ধু সব,                     কেউ দেখে না সমূহ শব

সাপের সাথেই তারা                   করে কলরব

 

একটি প্রশান্ত নদীতে ছিল           জলের চঞ্চল ধারা

একটি প্রশান্ত নদীতে ছিল           বাউল বাতাস ছন্দ ছাড়া

একটি প্রশান্ত নদী ছিল

ছিল তার গতি চঞ্চল

সকলি ফুরায়ে গেল

ফুরাতে থাকে অবিরল।

 

পাড়ভাঙা মাটি থেকে সুবাস ছড়ায়,

নদীটি ক্রমশ লোকালয়ে চলে যায়

জলের নিকট থেকে

সবুজ ঘাস থেকে

জলের নিকট থেকে

নদীটি হারাতে থাকে নদীটি হারায়

 

দূরে দূরে সব দূরে দেখা যায় কাশ-সাদা বন

ছন্দ থেকে সরে গেলেই অন্ধকার বন

সাপের কুলকুল ধ্বনি

সুমধুর খুনি

রাখে না নদীর সুরস্রোত ধারা

 

এত ধূলিঝড়ে!

নির্মল পরিবেশ ভেসে যায় ধুলোর সরোবরে।

রগড়াতে রগড়াতে চোখ, বলছে—

দেখ নির্মল কাপড়ের কত হাহাকার

এক টুকরো কাপড় দৃষ্টি ফেরাতে পারে        তোমার আমার

 

চারিদিকে আনন্দ!

দেশের নবযাত্রা। অথচ এত রক্ত!

রক্ত কোথায়। এগুলো তো আনন্দ।

 

সাপের হাসি থামছে না

তার ভেতরে নূপুরের শব্দ

যেন কোনো তরুণী হেঁটে আসছে ধীরে

তার সাথে আসছে শত সহস্র কাচের চুড়ি।

শেষ শ্রাবণের বৃষ্টিগুলো বুঝি উল্টো মেঘ হয়ে গেল

তারপর হঠাত্ আলোর ঝলকানি

এত ঝলকানি

এত ঝলকানি

চোখ সয় না, দেখা যায় না

চোখ সয় না, দেখা যায় না

চোখ সয় না, দেখা যায় না

 

 

তবুও সাপের হাসি থামছে না

দেখা যায় আরো কতিপয় সাপ

তাদের হিসহিসানি

তাদেরও চেনা মনে হয়

তাদেরও মনে হয় চেনা

তাদেরও ছিল তুমুল নিশানা

 

নীলান্ত নীলের দংশনে

চাঁদের আলোর প্রক্ষেপণে

বিম্ব

আহা বিম্ব

রচিত সকল বিম্বের ভেতরে একটি বাঁকা চাঁদ।

তাকে ঘিরে কতিপয় তারা।

 

সাপের হাসি থামছে না

তার জিহ্বা হয়ে যাচ্ছে আস্ত একটা ছড়ি

সে ছড়ি ঘুরছে উদ্যানের সকল অক্সিজেনে

 

ছড়িটি বড় হতে থাকে

ছড়িটি বড় হতে হতে আস্ত একটা বাঁশের মতো হয়ে যায়

তার অগ্রভাগে এক টুকরো কাপড়

কাপড়ে কৃমির মতো ছড়িয়ে পড়া তারকা

কাপড়ে কৃমির মতো ছড়িয়ে পড়া বাঁকা বল্লম

 

সেই বল্লম ঘুরছে

ঘুরছে

আর ত্রিশ লক্ষের উত্তরাধিকারে

যাঁরা তখনো লালন করছে এবারের সংগ্রাম

মুছে দিচ্ছে সে-ছড়ি তাহাদের সবগুলো নাম

 

সাপের হাসি থামছে না।

সাপের হাসি থামছে না।

সাপের হাসি থামছে না।

কারণ তারা ইতোমধ্যে লিখতে পেরেছে

তারা ইতোমধ্যে লিখে ফেলেছে

কী লিখেছে

লিখেছে

এ রক্তের বিচার হবে না কোনোদিন

কারণ এ রক্তের নেই কোনো উত্তরাধিকার

কারণ এ রক্তের সব কিছু মিথ্যে এ অববাহিকার