লাভবার্ড পালন করে লাভবান দেবাশীষ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ২০:২৩

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

শখের পাখি লাভবার্ড পালন করে লাভবান হয়েছেন দেবাশীষ বড়ুয়া জোসী। শখে শুরু করলেও এখন লাভবার্ড পালন করে তার আয় ভালোই। জোসির লাভবার্ডের সঙ্গে তার পরিচয় ১৯৯৯ সালে। প্রথমদিকে বারবার লাভবার্ড ক্রয় করে তিনি সফল হতে পরেননি। ২০০৫ সালে তিনি প্রথম সফলতার মুখ দেখেন। তার পক্ষীশালায় লাইম ফিচার লাভবার্ডের বাচ্চা ফোটে। ছয় বছর শুধু অপেক্ষায় থাকেন। এ প্রসঙ্গে জোসী বলেন, শুধুমাত্র ধৈর্য্য থাকার কারণে আজকে লাভবার্ড সেক্টরে আমি অনেক সফল হয়েছি। তার পাখির খামারের নাম ‘বার্ডস গার্ডেন এভিয়ারি’। মালিবাগ রেল গেটের কাছে তার পক্ষীশালা। তার পক্ষীশালায় প্রায় ৪০ জোড়া ব্রিডিং (বাচ্চা করার উপযোগী) লাভবার্ড আছে। উল্লেখযোগ্য প্রজাতিগুলো হলো—  ব্ল অপলাইন ফিশার, গ্রিন অপলাইন ফিশার, পেইড ক্লিয়ার হেডেড পারব্লু, ইয়েলো ফিশার, ইয়েলো ফেস পার ব্লু, পেইড ব্লু সেবল, কোবাল্ট সেবল, লুটিনো পিচ ফেস, রোসি পিচ ফেস, ডি এফ ইয়েলো হেড পার ব্লু ইত্যাদি। তিনি প্রায় ১৫টি প্রজাতির লাভবার্ডের বাচ্চা উত্পাদনে সফল হয়েছেন। যেগুলো হলো— পেইড ডিএফ ভায়োলেট স্যাবল, পেইড ক্লিয়ার হেডেড পারব্লু, ডিএফ ভায়োলেট ক্লিয়ার হেডেড পারব্লু, ডিএফ ইয়োলো ফেস পারব্লু, ইয়েলো ফিশার, গ্রিন ফিশার, ডিএফ ভায়োলেট ফিশার, ডিএফ ভায়োলেট স্যাবল, পেইড ডিএফ ভায়োলেট পেইড স্যাবল, পেইড ব্লু স্যাবল, হোয়াইট ফিশার, ডিডি ব্লু ফিশার, ডিডি কোবাল্ট ফিশার, কোবাল্ট স্যাবল, লুটিনো পিস ফেস, রোজী পিচ ফেস। জোসি জানান, গত এক বছরে আনুমানিক ২৫ জোড়া ফিশার প্রজাতির লাভবার্ড থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ পিস বাচ্চা উত্পাদন করতে পেরেছেন। প্রতি মাসে তার সব খরচ বাদে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো মুনাফা থাকে। ছোটবেলা থেকেই পাখির প্রতি ভালোবাসা। অসংখ্য অসুস্থ পাখির সেবা করে সুস্থ করেছেন। ঝড়, বৃষ্টি হলে খুঁজে বেড়াতেন— কোথাও পাখির বাচ্চা পড়ে আছে কি না। তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েন। একদিন শিকারীর আঘাতে রক্তাক্ত বুলবুলির বাচ্চা খুঁজে পান এবং পরম মততা ও সেবা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলেন। কবুতর, ময়না, শালিক, ঘুঘু, টিয়া এমন অনেক পাখি পালন করেছেন। জোসী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির পোষা পাখি আছে। লাভবার্ড মানুষ পালন করবে কারণ, লাভবার্ড দেখতে সুন্দর। পালন করা সহজ। অসুখ-বিসুখ কম। অসুখ হলেও চিকিত্সা করার মতো সময় দেয়। শক্ত প্রজাতির পাখি। খাবার, ওষুধ সব সহজলভ্য। আয়ুকালও বেশি। খাঁচায় প্রায় দশ বারো বছর বাঁচে। প্রজাতির সংখ্যা বেশী। আমাদের দেশের আবহাওয়া এদের জন্য খুব উপযোগী। নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সর্ম্পকে জোসী বলেন, ভবিষ্যতে লাভবার্ডের বড় একটা খামার করব। পাশাপাশি একটা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করব যেন লাভবার্ড বিষয়ে হাতে-কলমে মানুষ প্রাথমিক ধারণা, মিউটেশন, চিকিত্সা ইত্যাদি বিষয়ে জানতে পারে।