আলু কেন, সব পণ্যের মূল্যই চালানপত্রে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাতে আবার আলুর মূল্য চালানপত্রে বিশেষভাবে বলার কী আছে! হ্যাঁ, বাংলাদেশের আড়তদারদের নাজেহাল কাণ্ডকারখানা দেখে বিশেষভাবে বলাই শ্রেয়। আলু কিনবেন ৪৫ টাকা দরে, কিন্তু চালানে লিখে দেব ২৫ টাকা কেজি! কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে গেলে এমনটাই বলছেন আড়তদাররা। ফলে তারা অন্য কাঁচামাল বিক্রি করলেও আলু কিনতে পারছেন না ও ভোক্তাদেরও যেটুকু সরবরাহ করছেন সেটাও চড়া মূল্যে। খুলনা জেলার দাকোপ থানার পানখালী বাজারে দেখা গেছে এই অবস্থা। সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিলেও আড়তদারদের কৌশল জনসাধারণের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে।
সরকার তিন পর্যায়ে আলুর দাম নির্ধারণ করেছে। কেজিপ্রতি খুচরা পর্যায়ে ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগার থেকে ২৩ টাকা। এই দামে আলু বিক্রি না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এইসব আইন ও বিধিনিষেধ না মেনেই পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চড়া মূল্যে আলু বিক্রি করে যাচ্ছেন। খুলনা জেলার দাকোপ থানার পানখালী গ্রামে সপ্তাহে শনি ও সোম দুদিন হাট বসে। বাজার ঘুরে দেখা যায় ভিন্নরকম চিত্র। গত সোমবার কোনো খুচরা বিক্রেতা আলু আনেননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘আড়তদাররা বলছেন আলু আমাদের থেকে কিনবেন ৪৫ টাকা কেজি কিন্তু চালানে লিখতে হবে ২৫ টাকা।’ এ অবস্থায়, প্রশাসনের সুষ্ঠু হস্তক্ষেপই পারে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে।
রহিম জমাদ্দার
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
