ফ য় জু ল আ ল আ মী ন
কল্পনা, স্বপ্ন এবং জীবনের বিশেষ এক যোগসূত্র রয়েছে। আমাদের কল্পলোকের কল্পনা থেকেই সৃষ্টি হয় স্বপ্ন। আর স্বপ্নের রং দিয়েই আমরা সাজাই জীবন। কিন্তু ধূসর বাস্তবতা জীবনের রং পাল্টে দেয় বারবার। এই রং বদলের গল্পে আমরা যেন পুতুল। আর রং-এর এই বিচ্যুতিতে দায় কেবল আমার কিংবা তোমার নয়—এ দায় সকলের। জীবন শুরুর প্রারম্ভে বাবা- মা’র কাছে সন্তান আসে নূর কিংবা আলো হয়ে। বেঁচে থাকার প্রতি মুহূর্তে যে নূর ছড়ায় আলো। কিন্তু পার্থিব কুিসত কালো অন্ধকার মুহূর্তেই নিভিয়ে দিতে পারে সেই আলো। এই সময়ে আমাদের সমাজে ধর্ষণ এক ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। কদাকার এক স্থূলস্বার্থ চরিতার্থে যেখানে মিথ্যে হয়ে যায় সমস্ত সম্পর্ক, সকল মানবতার গল্প। এমনই এক প্রেক্ষাপটে পরিচালক নাদিয়া আফরিন রেখার রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে ‘পিতৃ সত্ত্বা’ শিরোনামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রে সমসাময়িক অসামাজিক বাস্তবতার কিছু অযাচিত চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে একজন বাবার দৃষ্টিকোণ থেকে। মূলত শিশু ধর্ষণ কিংবা কন্যা সন্তানের অনিরাপদ জীবন বাবা-মা কিংবা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে যে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে তার এক চিলতে চিত্র হচ্ছে এই চলচ্চিত্র। এতে মুখ্য দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহেদ শরীফ খান এবং ফারজানা ছবি। আরো অভিনয় করেছেন তনামী হক, ঐশী, নাফিজা, পূর্ণতা, মিল্টন প্রমুখ।
এই চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে অভিনয় শিল্পী ফারজানা ছবি বলেন, এখানে আমার চরিত্রের নাম জয়িতা। অভিনয় জীবনে নানামুখী চরিত্রে প্রতিদিন অভিনয় করছি। তবু কিছু কাজের প্রতি একটা তীব্র ভালোবাসা কাজ করে। এটি আমার তেমনই একটি প্রিয় কাজ। এর গল্প সমসাময়িক এক অসামাজিক বাস্তবতাকে প্রকাশ করে। ধর্ষণের প্রতিবাদে পরিবার, সমাজ এবং গোটা জাতির সোচ্চার হওয়ার সময় এখনই। শুধু তাই নয়, নিজ নিজ অবস্থান থেকে রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদের প্রত্যেককে—এ দায়িত্ব আমার, আপনার সকলের। এ কাজটিতে অভিনয় করাটা শিল্পী হিসেবে আমার সামাজিক দায়িত্ব মনে করেছি। আমাকে চমত্কার এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যোগ্য মনে করায় পরিচালক নাদিয়া আফরিনকে ধন্যবাদ। অভিনেতা শাহেদ শরীফ খান তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমার অভিনয় জীবনে একটি সেরা চরিত্র এটি। অভিনয়ের সময় বারবারই আমার নিজের কন্যা শিশুটির কথা মনে হয়েছে। পরিচালক নাদিয়া আফরিন রেখা জানান, এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি মূলত আন্তর্জাতিক কিছু উত্সবে প্রদর্শনের জন্যে নির্মাণ করেছি। এতে আমার সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। সাড়ে আট মিনিট ব্যপ্তির এই সিনেমার পুরোটাই সংলাপবিহীন, নির্বাক। এর শুটিং করেছি টানা তিন দিন। এখন পোস্ট প্রডাকশনের কাজ শুরু করব। আশা করছি আমাদের এ কাজটি দর্শকের হূদয় ছুঁয়ে যাবে।
