কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার বরুড়ায় দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সরকারি অনুদানের ৪১ মেট্রিকটন চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি পূজামণ্ডপে পৃথক ডিওতে ৫০০ কেজি করে চাল না দিয়ে ঐ চাল বিক্রি করে নামমাত্র টাকা বিতরণের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প কর্মকর্তা ও পূজা উদ্যাপন কমিটির দুই নেতার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ করা হয়, সরকারিভাবে জেলার বরুড়া উপজেলার ৮২টি পূজামণ্ডপে ভক্তদের আহারের জন্য ৫০০ কেজি করে ৪১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরুড়া উপজেলা সরকারি গুদাম থেকে ঐ চাল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপে চাল সরবরাহ না করে নগদ টাকা বিতরণ করা হয়। অনুসন্ধানে গেলে অভিযোগকারী অসীম কুমার দে, পঙ্কজ গোস্বামী, উত্তম কুমার বিশ্বাস, প্রলয় চন্দ্র দে ও স্থানীয় পূজারিরা অভিযোগ করেন, ৮২টি মণ্ডপের জন্য পৃথক ডিও না দিয়ে বরুড়ার ইউএনও, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরস্পর যোগসাজশে একটি ডিওতে সরকারি চাল উত্তোলনপূর্বক কালোবাজারে বিক্রি করে ১৪ হাজার টাকা করে দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাত্ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে অভিযোগ তদন্তের জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।’ উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতা তপন ভৌমিক ও তপন কৃষ্ণ বণিক জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে চাল বিক্রির ১৪ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাল বিক্রি করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী সবকিছু করা হয়েছে।
বরুড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহীন হোসেন বলেন, পূজা উদ্যাপন কমিটির দুই নেতা (ডা. তপন ভৌমিক ও তপন কৃষ্ণ বণিক) ৪১ মেট্রিকটন চালের একটি ডিও নিয়েছেন। তারা চাল, নাকি টাকা দিয়েছেন তা জানা নেই।
বরুড়ার ইউএনও মো. আনিসুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পূজা উদ্যাপন কমিটিকে চালের ডিও দেওয়া হয়েছে। চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
