থিসারা পেরেরাকে একটা ছক্কা মারার পর এক বল বিরতি নিলেন। এরপর পরপর তিনটি চার মেরে দিলেন। হঠাত্ করেই ঢাকায় যেন ফিরে এলো কলম্বোর স্মৃতি।
এই থিসারা পেরেরা এবং তার সতীর্থদের ওপর চড়াও হয়ে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেই জয়ে ভর করে বাংলাদেশ চলে গিয়েছিল ফাইনালে। টি-টোয়েন্টিতে এরকম অবিশ্বাস্য ফর্মের মুশফিককে খুব বেশি দেখা যায়, তা নয়। বরং অনেকেই বলেন, এই ফরম্যাটটা ঠিক তার জন্য নয়। সেই সমালোচকদের বিপক্ষে ব্যাটকে আরও একবার যেন তরবারি করে তুললেন মুশফিক। ৪১ বলে ৭৫ রানের এক ইনিংস খেলে চিটাগং ভাইকিংসকে এনে দিলেন কল্পনাতীত এক জয়। এই জয়টা চিটাগং অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকের কাছে নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মুশফিক আরেকটা বড় অর্জন করে ফেললেন এই ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে। তিনি হয়ে উঠলেন বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এই ম্যাচের আগে বিপিএলের সর্বোচ্চ রান ছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ১৪৭৬ রান নিয়ে রিয়াদ ছিলেন সবার ওপরে। গতকালকের ইনিংস খেলার পথে রিয়াদকে টপকে রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন মুশফিক। তার এখন বিপিএলে মোট রান ১৪৯৬।
মুশফিক ৭৫ রান করে আলোটা নিজের ওপর টেনে নিলেন। অথচ এই ম্যাচটা হতে পারত থিসারা পেরেরার। গতকালই ঢাকায় এসে রানের উত্সব করেছেন শ্রীলঙ্কান এই অলরাউন্ডার।
এক সপ্তাহ আগে নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছিল থিসারা পেরেরার ব্যাট। ৭৪ বলে ১৪০ রানের ইনিংসে সেদিন শ্রীলঙ্কাকে জেতাতে পারেননি। তবে নিউজিল্যান্ড থেকে ঠিকই বিস্ফোরক ব্যাটিংটা ঢাকায় বয়ে এসেছেন এই লঙ্কান অলরাউন্ডার। সকালে ঢাকায় এসে কয়েক ঘণ্টার বিশ্রামে গতকাল বিকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে বিপিএলের ম্যাচ খেলতে নেমে যান তিনি।
মিরপুর স্টেডিয়ামে চিটাগং ভাইকিংসের বোলারদের রীতিমতো কচুকাটা করেছেন থিসারা পেরেরা। তার আগ্নেয় প্রহারে ঢিমে-তালে এগিয়ে চলা কুমিল্লা-চিটাগংয়ের ম্যাচটা হঠাত্ করেই উত্তাপ ফিরে পেল। শহীদ আফ্রিদির বিদায়ের পর ১৪তম ওভারে নেমে ২৬ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের অতিমানবীয় ইনিংস খেলেছেন থিসারা। তিন চারের সঙ্গে আট ছক্কায় সাজানো ছিল ইনিংসটি।
পেরেরার মতো অতিমানবীয় ছিল না মুশফিকের ইনিংসটা। তবে কার্যকারিতার দিক থেকে আরও এগিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। তিনি যখন উইকেটে এসেছিলেন, ততক্ষণে আস্কিং রান রেট আকাশে চড়ে বসেছে। ম্যাচ চিটাগংয়ের হাত থেকে বের হয়ে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু ওখান থেকেই রুখে দাঁড়ান মুশফিক।
একে একে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা মেরেছেন। মিরপুরের আকাশকে আতশবাজি দিয়ে নয়, নিজের ব্যাটিং দিয়ে আলোকিত করেছেন। আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই ফরম্যাটটাও তার জন্য ঠিক আছে।
বিপিএলের সর্বোচ্চ রান
(ঢাকা পর্ব পর্যন্ত)
খেলোয়াড় ম্যাচ রান গড়
মুশফিকুর রহিম ৬২ ১৪৯৬ ৩২.৫২
মাহমুদউল্লাহ ৬৭ ১৪৭৬ ২৬.৮৩
তামিম ইকবাল ৪৮ ১৪১৮ ৩২.৯৭
সাকিব আল হাসান ৬৫ ১২৪৩ ২৫.৩৬
এনামুল হক ৬২ ১১৮৭ ২৩.৭৪
