‘ভালোবাসলেই হয়’

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২০, ২০:৪২

একজন কলেজ শিক্ষিকার তার পেশা, সংসার, সন্তান সামলে একজন শিল্পী হয়ে ওঠা চারটেখানি কথা নয়। কিন্তু যে কাজটি তিনি ভালোবাসেন তার জন্য এটা একটু কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তাই আমাদের সমাজে অনেক নারী নিজের পেশাগত দায়িত্ব সামলে সংসারের কর্তব্য পালন করে আত্মতৃপ্তির জায়গায় একটু একটু করে এগিয়ে যান। হন শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক। এমনই একজন শুভ্রা দেবনাথ।

পেশায় দর্শনের কলেজ শিক্ষিকা, দুই সন্তানের স্নেহময়ী মা আর দায়িত্বশীল স্ত্রীর জায়গা পূরণ করে একজন আত্মবিশ্বাসী রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী। কীভাবে কি করেন প্রশ্ন করলে মিষ্টি হেসে উত্তর দেন—আমি আমার অবসরটাকেই সদ্ব্যবহার করি। যে সময়টায় টিভি দেখতে পারতাম, ঘুমিয়ে কাটান যেত। সে সময়টাতে আমি ব্যস্ত থাকি। আপনারা দেখবেন একজন মানুষ সারা দিন অনেক কাজ করে। আবার কেউ কেউ ঘুমিয়ে, বসে আড্ডা দিয়েই দিন পার করে। কাজের কাজ কিছুই করে না।

সংসার করে শিল্পী হতে একটু সময় লেগে যায় শুভ্রার। তাই তো একেবারে ছেলেবেলায় বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে গান শিখে বিয়ের ১২ বছর পর পুরোপুরি গাইতে শুরু করেন। তিনি মনে করেন একজন ব্যক্তিমানুষই সব। তিনি চাইলেই সব পারেন। তবে শুধু চেয়ে বসে থাকলে হবে না, তার জন্য পা বাড়াতে হবে। সমাজে মেয়েদের ভালো লাগার জায়গাটাকে উত্সাহিত করার পরিবেশ সবার জন্য নাও থাকতে পারে। তাই বলে থেমে যেতে নেই বলেন শুভ্রা। নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে বলেন, মা গান করতেন, মায়ের ইচ্ছাতেই গান শুরু হয়। ছেলেবেলায় জাতীয় প্রচারমাধ্যমে কাজ করে অনেক দিন থেমে থাকি। ভালোবাসি বলেই আবার অনেক বছর পর শুরু করি। দিলীপ দাস, মুরাদ আলী, সাদি মোহাম্মদ, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার মতো অনেক গুণী শিল্পীর কাছে আবার তালিম নিতে শুরু করি। বিভিন্ন সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করি।

তারপর নিজেকে প্রকাশ করার পালা। ২০১৪ সালে প্রথম দৈত অ্যালবাম ‘দুজনে-দুজনার’প্রকাশ পায়। ২০১৫ সালে ‘সুখের সন্ধানে’ প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি প্রকাশ পায় ‘রিদয়ে রহ’। প্রকাশের অপেক্ষায় আছে একটি অ্যালবাম ও একটি বই। ভালো কাজ করার তাড়না নিয়ে কাজ করি উল্লেখ করে বলেন আমাদের দেশে সংগীতকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জায়গাটা সেভাবে প্রসারিত হয়নি। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক ভালো শিল্পী বেড়িয়ে আসতে পারে না। আবার কাজের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতিই শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সকল প্রতিকূলতার পরও শুভ্রা মনে করেন নিজেকে নিয়ে স্বপ্নটা নিজেরই দেখতে হয়।